নিখোঁজের ৮ ঘণ্টা পর গর্ত থেকে শিশু বিথি রায়ের মরদেহ উদ্ধার
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার প্রায় আট ঘণ্টা পর বিথি রায় নামে ছয় বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার রাত ৮টার দিকে…
মেলবোর্ন, ১২ সেপ্টেম্বর- ফিলিস্তিনের গাজা নগরীর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দিকে ক্রমেই এগিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। তীব্র হামলা চালিয়ে সেখানকার একের পর এক এলাকা দখল করা হচ্ছে। নগরী ছেড়ে চলে যেতে বলা হচ্ছে বাসিন্দাদের। ইসরায়েলের হামলা ও হুমকির মুখে সাম্প্রতিক দিনগুলোয় ২ লাখ বাসিন্দা গাজা নগরী ছেড়েছেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর বরাতে সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল ও চ্যানেল ১২-এর খবরে বলা হয়েছে, গাজা নগরীতে হামলা আরও বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন ইসরায়েলি সেনারা। সাম্প্রতিক দিনগুলোয় মোট ২ লাখ ফিলিস্তিনি শহর এলাকাটি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। গাজা নগরী ও এর আশপাশে ১০ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করেন বলে ধারণা করা হয়।

গাজা নগরীতে অভিযান চালাতে সীমান্তে ট্যাংক নিয়ে ইসরায়েলি সেনাদের প্রস্তুতি। ছবি: এএফপি
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় নির্বিচার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। এরই মধ্যে গত মাস থেকে উপত্যকার উত্তরে গাজা নগরী দখলে অভিযান শুরু করে তারা। গত সপ্তাহে সেখানকার তিনটি এলাকা—সেজাইয়া, জেইতুন ও তুফাহে অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। বৃহস্পতিবার তারা দাবি করেছে, নগরীর ৪০ শতাংশ এলাকা এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে।
ইসরায়েলের অভিযান শুরুর পর ২৩ মাসে তুলনামূলক অনেকটাই অক্ষত ছিল গাজা নগরীর নাসের এলাকা। সংঘাতের শুরুর দিকে সেখানে ইসরায়েলি স্থলবাহিনীর উপস্থিতি দেখা গিয়েছিল। এরপর গত বুধবার এলাকাটিতে উড়োজাহাজ থেকে লিফলেট ফেলা হয়। তাতে বাসিন্দাদের অন্যত্র চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এখন এলাকাটির বাসিন্দারা হামলা নিয়ে তীব্র শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন।

গাজার মানবিক পরিস্থিতি এখনও মারাত্মক। ছবিঃ রয়টার্স
নাসের এলাকার বাসিন্দা আবু আহমেদ বলেন, ‘প্রায় দুই বছর হয়ে গেছে আমরা কোনো বিশ্রাম নিতে পারিনি, কোথাও স্থায়ী হতে পারিনি, ঘুমাতে পারিনি।’ গতকাল ছোট ছোট সন্তান নিয়ে পরিবারসহ পালাচ্ছিলেন আবু আহমেদ। তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধের চারপাশে আমাদের জীবন ঘুরছে। এক এলাকা থেকে অন্যত্র পালাতে হচ্ছে। আমরা আর এটা নিতে পারছি না। ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।’
তবে হুমকির মুখে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) কর্মীরা গাজা নগরী ছাড়বেন না বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘গাজা নগরীর ১০ লাখ মানুষকে ইসরায়েলের নির্ধারণ করা কথিত মানবিক এলাকায় চলে যেতে বলা হয়েছে। এই নির্দেশে ডব্লিউএইচও শঙ্কিত।’ গাজায় যুদ্ধবিরতির জন্য বিশ্বসম্প্রদায়ের কাছে আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত গাজাজুড়ে হামলা চালিয়ে অন্তত ২২ জনকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। এর মধ্যে গাজা নগরীর ১১ জন রয়েছেন। স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২৩ মাস ধরে চলা ইসরায়েলের হামলায় গাজায় ৬৪ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৬৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au