ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো । ছবি: রয়টার্স
মেলবোর্ন, ১২ সেপ্টেম্বর- ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোকে অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের দায়ে দোষীসাব্যস্ত করে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় রাতের দিকে ঘোষিত এ রায়ে কোর্টের পাঁচ বিচারপতির মধ্যে চারজন দোষীসাব্যস্তের পক্ষে রায় দেন। একজন বিচারপতি অবশ্য বলসোনারোকে খালাস দেওয়ার মত দেন।
২০২২ সালের শেষদিকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত হয়ে লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভাকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্র করেন বলসোনারো—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই ওঠে আসছিল। সুপ্রিম কোর্টে তার বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়, যার মধ্যে রয়েছে:
- রাষ্ট্রক্ষমতা উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র
- নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ
- সামরিক বাহিনীকে প্ররোচিত করা
- ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা
- গণতান্ত্রিক কাঠামো ধ্বংসের চেষ্টা
সব ক’টি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন বিচারপতিরা। ফলে ৭০ বছর বয়সী এই সাবেক প্রেসিডেন্টকে জীবনের বাকি সময় কারাগারেই কাটাতে হবে বলে মনে করছেন অনেকে।
বলসোনারো ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে তার ডানপন্থী অবস্থান, পরিবেশ নীতি নিয়ে সমালোচনা, কোভিড–১৯ মোকাবিলায় ব্যর্থতা এবং বিরোধীদের দমনপীড়ন নিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলোচনায় আসেন। এবার অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্রের দায়ে দণ্ডিত হওয়ায় তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কার্যত সমাপ্ত হতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
এ মামলায় বলসোনারোর পাশাপাশি আরও সাতজন দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আছেন সাবেক মন্ত্রী ও সামরিক বাহিনীর কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা।
সাবেক সেনা ক্যাপ্টেন বলসোনারো অভিযোগ করেছেন, তিনি রাজনৈতিক দমনপীড়নের শিকার। বর্তমানে তিনি গৃহবন্দী অবস্থায় আছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তার ছেলে, সিনেটর ফ্ল্যাভিও বলসোনারো লিখেছেন, “তারা এমন একটি প্রক্রিয়াকে বিচার বলছে, যার ফলাফল ঘোষণার আগেই সবার জানা ছিল।”
বলসোনারোর এই রায়কে কেন্দ্র করে ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি যেমন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে, তেমনি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, এই রায়ের ফলে ব্রাজিলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও খারাপ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলসোনারোর প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছেন।
রায় ঘোষণার পর ট্রাম্প বলেন, “বলসোনারোর দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ঘটনায় আমি বিস্মিত ও অত্যন্ত অসন্তুষ্ট।”
এর আগে গত ৯ জুলাই ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, বলসোনারোকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদে তিনি ব্রাজিলের কিছু পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, প্রয়োজনে আরও কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, বলসোনারোর সাজা এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলবে।
ব্রাজিলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। অনেকেই মনে করছেন, সুপ্রিম কোর্টের এই রায় হয়তো ব্রাজিলের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে পারে, তবে একে ঘিরে ডানপন্থী বলসোনারো সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ও প্রতিবাদের ঢেউও তৈরি হতে পারে।
বর্তমানে দেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় সেনা ও পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে যাতে কোনো সহিংসতা না ছড়িয়ে পড়ে।
সুত্রঃ এএফপি