নিখোঁজের ৮ ঘণ্টা পর গর্ত থেকে শিশু বিথি রায়ের মরদেহ উদ্ধার
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার প্রায় আট ঘণ্টা পর বিথি রায় নামে ছয় বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার রাত ৮টার দিকে…
মেলবোর্ন, ১৪ সেপ্টেম্বর- লন্ডনে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের ওপর হামলার চেষ্টার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে সরকারের প্রেস উইং এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানায়।
বিবৃতিতে জানানো হয়, লন্ডনের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজ (SOAS) ক্যাম্পাসে এক সেমিনার থেকে বের হওয়ার সময় একদল বিক্ষোভকারী বাংলাদেশ হাইকমিশনের গাড়িতে ডিম নিক্ষেপ করে এবং কিছু সময়ের জন্য গাড়ির পথ আটকে রাখার চেষ্টা করে। তবে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার সময় গাড়ির ভেতরে উপদেষ্টা মাহফুজ আলম উপস্থিত ছিলেন না।
বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, ব্রিটিশ পুলিশ সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে এবং উপদেষ্টার কর্মসূচি চলাকালে তাকে পূর্ণ নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছে। প্রেস উইং আরও জানিয়েছে, কয়েক সপ্তাহ আগে নিউইয়র্কে সরকারি কাজে থাকাকালীন মাহফুজ আলমের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল। সেদিন কনস্যুলেট জেনারেলের এক অনুষ্ঠানে বিক্ষোভকারীরা ডিম ও বোতল নিক্ষেপ করে, যার ফলে মিশনের কাচের দরজা ভেঙে যায়। পরে কনস্যুলেট স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের আঞ্চলিক দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানায়।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ ধরনের প্রকাশ্য হয়রানির প্রচেষ্টাকে নিন্দনীয় ও গণতন্ত্রবিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন। সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার, দেশের মানুষ এবং আয়োজক দেশগুলোর কর্তৃপক্ষ সভ্য মূল্যবোধের পাশে দাঁড়িয়েছে, কিন্তু দুর্বৃত্তরা বর্বরতা ও উৎপীড়নের জগতে বসবাস করছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সহিংসতা কোনো প্রতিবাদ হতে পারে না, ভয়ভীতি প্রদর্শনকে বাকস্বাধীনতা বলা যায় না। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও বাকস্বাধীনতা গণতন্ত্রের ভিত্তি হলেও তা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে প্রয়োগ করতে হবে।
সরকার কনস্যুলার যানবাহনকে লক্ষ্যবস্তু করার ঘটনাকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক শিষ্টাচারের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে। দেশগুলোর মধ্যে দায়িত্বশীল সংলাপ বজায় রাখার যে নীতি, সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। সরকার লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপকে স্বাগত জানায় এবং অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রাখার কথা জানায়।
বিবৃতিতে হামলাকারীদের উদ্দেশে বলা হয়, যদি আপনারা সত্যিই কোনো বিষয়ে আস্থা রাখেন তবে শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত উপায়ে সেটি প্রকাশ করুন। ডিম নিক্ষেপ, কাচ ভাঙা কিংবা মব থিয়েট্রিক্স কাউকে সমর্থন করাতে পারে না। এগুলো কেবল প্রমাণ করে যে আপনাদের হাতে যুক্তি ফুরিয়ে গেছে। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, আয়োজক ভেন্যু ও প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয় যেন তারা প্রকাশ্য আলোচনার পরিবেশকে রক্ষা করেন। কঠিন বিতর্কের আয়োজন করা হোক, তবে এমন আচরণের ওপর জোর দেওয়া হোক যা বক্তা, শ্রোতা ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারী—সবাইকে সমানভাবে সুরক্ষা দেয়।
সরকার মেট্রোপলিটন পুলিশকে আহ্বান জানিয়েছে, হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে ভাঙচুর, আক্রমণ ও বাধাদানের অভিযোগে তাদের বিচারের আওতায় আনতে। এজন্য ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণ কাজে লাগানোর অনুরোধও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতা ও প্রবাসী সংগঠকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তারা দলীয় আনুগত্য যাই হোক না কেন, সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের রাজনীতি প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করেন।
বিবৃতির শেষাংশে সরকার শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারকে পুনর্ব্যক্ত করে জানায়, গণতন্ত্র শুধু আবেগ নয়, আত্মনিয়ন্ত্রণও দাবি করে। নাগরিকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের বিকাশে এই দুটি বিষয়ই অপরিহার্য।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au