দুই মাস ধরে আলাদা, জানুয়ারিতে বিচ্ছেদের ঘোষণা দেবেন ফারুকী-তিশা
ওটিএন বাংলা ডেস্ক : দীর্ঘ ২০ বছরের সম্পর্ক ও ১৬ বছরের দাম্পত্য জীবন শেষে বিচ্ছেদের পথে হাঁটছেন নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ…
মেলবোর্ন, ১৮ সেপ্টেম্বর- আমেরিকান সিনেমার এক অমর নাম রবার্ট রেডফোর্ড। তিনি শুধু হলিউডের নায়কই ছিলেন না; ছিলেন অসাধারণ মানুষ। পর্দায় যেটুকু দেখাতেন, তা শুধু নায়কত্ব নয়, ছিল এক অনুভূতি, এক আবেগ। ১৯৬৩ সালে ‘বেয়ারফট ইন দ্য পার্ক’ শিরোনামে মঞ্চনাটকের মাধ্যমে তাঁর যাত্রা শুরু হয়েছিল। সেই সূচনা, এর চার বছরে তিনি হয়ে উঠেন প্রজন্মের স্বপ্নের নায়ক।
মঙ্গলবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রোভো শহরে নিজ বাড়িতে ৮৯ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ঘুমের মধ্যেই শান্তিপূর্ণভাবে তিনি মারা গেছেন। অভিনেতার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’।
সত্তরের দশকে রেডফোর্ডের চেহারা হলিউডের রোমান্টিক আবহকে সংজ্ঞায়িত করেছিল। ‘বুচ ক্যাসিডি অ্যান্ড দ্য সানড্যান্স কিড’ সিনেমায় তাঁর উপস্থিতি যেন এক নতুন রং যোগ করেছিল। ‘দ্য স্টিং’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি পৌঁছেছিলেন অস্কারের দ্বারপ্রান্তে। একসময়ে দর্শকরা শুধু তাঁকে দেখতে সিনেমা হলে ভিড় করতেন; কিন্তু সিনেমায় অভিনয় কেবল রেডফোর্ডের গল্পের অর্ধেক। পরিচালক রেডফোর্ড যেন আরেকটি বিশ্ব খুলে দেন।
নির্মাণে তিনি তুলে ধরেন মানুষ, সম্পর্ক, আবেগ আর বাস্তবতার জটিলতা। ‘অর্ডিনারি পিপল’-এর জন্য সেরা পরিচালক হিসেবে অস্কার জয় তাঁর সিনেমার ভেতরের গভীরতা প্রকাশ করেছিল। ‘কুইজ শো’, ‘আউট অব আফ্রিকা’, ‘দ্য ওল্ডম্যান অ্যান্ড দ্য গান’ প্রতিটি ছবিতে রেডফোর্ডের অনবদ্য দৃষ্টিভঙ্গি, সূক্ষ্মতা এবং মানবিকতা ফুটে উঠেছে।
অভিনয় কিংবা নির্মাণের চেয়ে সম্ভবত তাঁর সবচেয়ে বড় অর্জন হলো স্বাধীন সিনেমার জগতকে নতুন পথ দেখানো। সানড্যান্স চলচ্চিত্র উৎসবের মাধ্যমে রেডফোর্ড শুধুই একটি ফেস্টিভ্যাল তৈরি করেননি; তিনি দিয়েছেন নতুন গল্প বলার সাহস, নতুন নির্মাতাদের কল্পনার মুক্তি। ‘মূলধারার সিনেমা সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করত, কিন্তু বাইরে আরও অনেক গল্প ছিল, যেগুলো বলার সুযোগ পেত না।’ এ কথাই ছিল তাঁর একান্ত দর্শন।
অস্কার, গোল্ডেন গ্লোব, বাফটা, স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড সবকিছুই তাঁর হাতে ছিল। কিন্তু তা তাঁর আসল উত্তরাধিকার নয়; আসল উত্তরাধিকার হলো নির্ভীকভাবে গল্প বলার সাহস, নতুন সিনেমার পথ প্রশস্ত করা, আর দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা তৈরি করা।
আজ রেডফোর্ড নেই। কিন্তু তাঁর চোখে দেখা পৃথিবী, সিনেমার ছন্দ, স্বপ্ন– সবই রয়ে গেছে। পর্দার হিরো, পরিচালক, প্রযোজক– সব মিলিয়ে রবার্ট রেডফোর্ড হয়ে থাকবেন আমাদের চোখে, হৃদয়ে এবং সেসব গল্পে, যেগুলো তিনি বাঁচিয়ে গেছেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au