পুজার সাজে নুসরাত জাহানের বাঙালিয়ানা। ছবি: সংগৃহীত
পুজোর সাজে সাবেকি বাঙালিয়ানার আবেদন বরাবরই আলাদা। লালপেড়ে সাদা শাড়ি, সোনার গয়না, কপালে লাল টিপ আর সিঁথিতে সিঁদুর, এই চেনা সাজেই যেন ধরা পড়ে বাঙালির উৎসবের আবহ। অভিনেত্রী নুসরাত জাহানের পুজোর সাজেও দেখা গেল সেই চিরপরিচিত রূপ। কখনো ধুনুচি হাতে নাচের ছন্দে, কখনো দেবীর সামনে শান্ত ও স্নিগ্ধ ভঙ্গিতে, দুই সাজেই নজর কেড়েছেন তিনি।
ধুনুচি হাতে লাল-সাদার মায়া
সাদা জমিনে চওড়া লাল পাড়ের শাড়ি। তার সঙ্গে টকটকে লাল ব্লাউজ। ধুনুচি হাতে নুসরাতের নাচের মুহূর্তে শাড়ির ঘের ছড়িয়ে পড়েছে চারপাশে। লাল-সাদার চিরাচরিত মেলবন্ধনে তাঁর সাজে ফুটে উঠেছে পুজোর উচ্ছ্বাস।
ব্লাউজের গলা ও হাতায় সাদা সুতোর সূক্ষ্ম নকশা পোশাকের সৌন্দর্য বাড়িয়েছে। শাড়ির আঁচলের চওড়া লাল পাড়ে ঝুলন্ত গোলাকার নকশাও নজর কাড়ে। সব মিলিয়ে সাবেকি পোশাকের সঙ্গে উৎসবের আমেজকে সুন্দরভাবে মিলিয়েছেন অভিনেত্রী।

সোনার গয়নায় সাবেকি আভা। ছবি: সংগৃহীত
সোনার গয়নায় সাবেকি সাজ
নুসরাতের প্রথম সাজের অন্যতম আকর্ষণ তাঁর গয়না। গলায় সোনালি নকশার চোকার, তার নিচে মুক্তোর সারি, কানে সোনার ঝুমকো আর নাকে ছোট নথ। হাতে ভারী সোনার বালা ও লাল চুড়ি সাজে যোগ করেছে বাঙালিয়ানার পরিচিত ছোঁয়া।
মেকআপে বাড়তি আড়ম্বর নেই। চোখে সরু উইংড আইলাইনার, ঠোঁটে হালকা ন্যুড গ্লসি লিপস্টিক। কপালে লাল টিপ ও সিঁথির সিঁদুর সাজকে দিয়েছে পূর্ণতা। সামনের চুল কিছুটা তুলে পেছনে আটকে রেখেছেন, বাকি চুল খোলা ও ঢেউখেলানো। ভারী গয়না এবং হালকা মেকআপের এই ভারসাম্য তাঁর সাজকে করেছে আরও আকর্ষণীয়।
জামদানিতে স্নিগ্ধ বাঙালি রূপ
ধুনুচি হাতে উচ্ছ্বাসের সাজের পাশাপাশি নুসরাতের আরেকটি লুকেও রয়েছে সাবেকি সৌন্দর্য। অফ-হোয়াইট জমিনে বড় লাল নকশা ও লাল পাড়ের জামদানি শাড়িতে তাঁকে দেখা গেছে শান্ত, স্নিগ্ধ রূপে। শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে পরেছেন একই ধরনের নকশা করা ব্লাউজ। পোশাকের রং ও নকশার সামঞ্জস্যে সাজটি পেয়েছে পরিপাটি চেহারা।
এই সাজে চুল বাঁধা যত্ন করে করা খোঁপায়। তার চারপাশে সাদা ফুলের গজরা। কানে সোনালি দুল, হাতে সোনার বালা, শাঁখা-পলা ও লাল চুড়ি। আঙুলের বড় সোনার আংটিও গয়নার সাজে এনেছে বাড়তি আকর্ষণ।
চোখে কাজল, কপালে বড় লাল টিপ আর সিঁথিতে সিঁদুর। অল্প মেকআপেই ফুটে উঠেছে উৎসবের আবহ। ধুনুচি নাচের সাজে যেখানে ছিল উচ্ছ্বাস, সেখানে জামদানির লুকে ধরা দিয়েছে বাঙালি নারীর শান্ত, স্নিগ্ধ সৌন্দর্য।
পুজোর সাজে কীভাবে আনবেন সাবেকি ছোঁয়া?
নুসরাতের দুই সাজ থেকেই পুজোর ফ্যাশনের জন্য কিছু সহজ ধারণা নেওয়া যায়। লালপেড়ে সাদা শাড়ির সঙ্গে মানানসই লাল ব্লাউজ বেছে নিলে সাজে আসে চিরাচরিত বাঙালিয়ানা। শাড়ির নকশা ও রঙের সঙ্গে মিলিয়ে গয়না পরলেও পুরো সাজ হয়ে ওঠে আরও পরিপাটি।
ভারী সোনার গয়না পরলে মেকআপ হালকা রাখাই ভালো। এতে সাজে ভারসাম্য বজায় থাকে। অন্যদিকে, জামদানি শাড়ির সঙ্গে খোঁপায় সাদা ফুলের গজরা, কপালে লাল টিপ এবং হাতে শাঁখা-পলা যোগ করতে পারে সাবেকি আভা।
ধুনুচি নাচের জন্য ঘেরওয়ালা শাড়ি বেছে নিলে নাচের ছন্দে পোশাকেও আসতে পারে সুন্দর গতিময়তা। তবে নাচের সময় শাড়ির আঁচল ও পায়ের কাছে কাপড় যেন চলাচলে বাধা না দেয়, সেদিকেও খেয়াল রাখা জরুরি। অষ্টমী বা নবমীর অঞ্জলির সাজে নকশা করা শাড়ি, লাল টিপ, সিঁদুর ও মানানসই গয়নাই যথেষ্ট।
নুসরাত জাহানের দুই সাজ মনে করিয়ে দেয়, পুজোর ফ্যাশনে নতুনত্ব যতই আসুক, লাল-সাদা শাড়ি, সোনার গয়না আর সিঁথির সিঁদুরে ধরা বাঙালিয়ানার আবেদন আজও অমলিন।