মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তি করেছেন জুলাই আন্দোলনে আহত হওয়ার অভিযোগে মামলা
জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের হামলায় আহত হওয়ার অভিযোগে করা একটি মামলার তদন্তে ভিন্ন তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,…
চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তিব্বত অঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন। আহতদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা গুরুতর। ভূমিকম্পে উপকেন্দ্রের কাছাকাছি কয়েকটি গ্রামের বাড়িঘরে ফাটল দেখা দিয়েছে। দুর্গম ও উঁচু পার্বত্য এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া শুক্রবার দেশটির নাগকু শহরের জরুরি ব্যবস্থাপনা ব্যুরোর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় ১৪টা ৩৩ মিনিট) ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। শুক্রবার রাত ২টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আহত ৩২ জনের মধ্যে ১১ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। বাকি ২১ জনের আঘাত তুলনামূলকভাবে কম গুরুতর।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ভূমিকম্পের উপকেন্দ্রের কাছাকাছি একটি গ্রামে অন্তত দুজন আহত ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, উপকেন্দ্রের নিকটবর্তী কয়েকটি গ্রামের কিছু বাড়িতে ফাটল দেখা গেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
দুর্গম পার্বত্য এলাকায় ভূমিকম্প
ভূমিকম্পটির উপকেন্দ্র ছিল উত্তর তিব্বতের নাগকু অঞ্চলের জনবসতি কম এমন একটি উচ্চ পার্বত্য কাউন্টিতে। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে এর উৎপত্তি হয়েছে বলে জানিয়েছে চায়না আর্থকোয়েক নেটওয়ার্কস সেন্টার (সিইএনসি)।
সিইএনসির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র থেকে পাঁচ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকার গড় উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪ হাজার ৮৬৪ মিটার। দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান এবং উচ্চতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
ভূমিকম্পটি তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে আঘাত হানে। সিইএনসি জানিয়েছে, স্থানীয় এলাকায় কম্পনটি স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে।
আতঙ্কে ঘর ছেড়ে বাইরে বাসিন্দারা
ভূমিকম্পের পর স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, আতঙ্কিত বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসছেন। কেউ কেউ খোলা জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন, আবার অনেকে রাস্তায় পার্ক করে রাখা গাড়ির ভেতরে অবস্থান করছেন।
এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, শক্তিশালী কম্পনে তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। ভূমিকম্পের সময় বাড়িটি কেঁপে উঠছিল এবং ঘরের কাঠামো থেকে মচমচ শব্দ শোনা যাচ্ছিল।
এদিকে, ভূমিকম্পের পরপরই স্থানীয় অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকারী দলগুলোকে সক্রিয় করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার দিকে রওনা হয়েছেন। হতাহতদের উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং দুর্গত বাসিন্দাদের সহায়তায় তাদের মোতায়েন করা হচ্ছে।
পরবর্তী কম্পনও রেকর্ড
প্রধান ভূমিকম্পটির পর আশপাশের এলাকায় আরও কয়েকটি ছোট ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়েছে। সিইএনসির তথ্য অনুযায়ী, এসব পরবর্তী কম্পনের মাত্রা ছিল প্রায় ৩ থেকে ৪।
প্রধান ভূমিকম্পের পর এ ধরনের কম্পনকে পরাঘাত বা আফটারশক বলা হয়। তবে পরবর্তী কম্পনগুলোর কারণে নতুন করে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
২০২৪ সালের জানুয়ারির পর চীনে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প
সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর চীনে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প এটি।
এর আগে ২০১০ সালে প্রতিবেশী ছিংহাই প্রদেশের ইউশু এলাকায় ৭ দশমিক ১ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ওই ঘটনায় অন্তত ২ হাজার ৬৯৮ জন নিহত হন এবং প্রায় ৩০০ জন নিখোঁজ ছিলেন।
তিব্বত ও আশপাশের অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকার অন্তর্ভুক্ত। হিমালয় অঞ্চলে ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের পারস্পরিক সংঘর্ষের কারণে এ অঞ্চলে ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে।
সর্বশেষ ভূমিকম্পে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত থাকায় ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের পূর্ণাঙ্গ তথ্যের জন্য অপেক্ষা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au