মেলবোর্ন, ২০ সেপ্টেম্বর- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, দক্ষিণ ক্যারিবীয় অঞ্চলে মাদকবাহী সন্দেহে একটি জাহাজে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে। তাঁর দাবি, এতে তিনজন ‘মাদকসন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ তথ্য জানান।
ট্রাম্প বলেন, তাঁর নির্দেশে পেন্টাগন এ হামলা চালিয়েছে। “গোয়েন্দা তথ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে জাহাজটি অবৈধ মাদক পাচার করছিল এবং এটি মার্কিন নাগরিকদের বিষপ্রয়োগ করার উদ্দেশ্যে একটি পরিচিত রুট ব্যবহার করছিল,” লিখেছেন তিনি।
ট্রাম্প হামলার একটি ভিডিওও প্রকাশ করেছেন। এতে দেখা যায়, সমুদ্রে ভাসমান জাহাজে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে এবং বিস্ফোরণের পর আগুন ধরে যায়। তবে জাহাজটি কোথা থেকে ছেড়ে এসেছিল কিংবা হামলাটি কোথায় হয়েছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি।
এটি দক্ষিণ ক্যারিবীয় অঞ্চলে মাদকবাহী জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় হামলা। চলতি সপ্তাহেই ভেনেজুয়েলার একটি অপরাধী চক্রের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজন জাহাজে হামলা চালানো হয়। এর আগে, ২ সেপ্টেম্বর ভেনেজুয়েলার অপরাধী চক্র ত্রেন দে আরাগুয়ার সদস্যদের লক্ষ্য করে প্রথম হামলা চালানোর দাবি করেছিলেন ট্রাম্প।
বর্তমানে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত সাতটি যুদ্ধজাহাজ, একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন এবং ১০টি যুদ্ধবিমান মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সম্প্রতি পুয়ের্তো রিকোতে অবতরণ করেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও নিশ্চিত করেছেন, সেনারা প্রশিক্ষণের জন্য নয়, বরং মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে সেখানে পাঠানো হয়েছে।
সন্দেহভাজন জাহাজ জব্দ বা ক্রুদের আটক না করে সরাসরি হামলা চালিয়ে ধ্বংস করার ঘটনায় সমালোচনা উঠেছে। বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো এ ধরনের অভিযানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুসারে যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হলেও, প্রেসিডেন্টরা প্রায়শই অনুমোদন ছাড়াই বিদেশে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছেন।
অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলা সরকার বলছে, তারা নিজেরাই মাদকবিরোধী লড়াইয়ে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করেছে। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে এসব হামলা নস্যাৎ করেছেন। তবে ওয়াশিংটন সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগে তথ্যদাতাদের জন্য পুরস্কার বাড়িয়ে ৫ কোটি ডলার ঘোষণা করেছে।
সুত্রঃ রয়টার্স