সেনাদের বহনকারী একটি গাড়িতে অতর্কিত হামলা হয়। ছবি: পিটিআই
মেলবোর্ন, ২০ সেপ্টেম্বর- ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুর আবারও অশান্ত হয়ে উঠেছে। গতকাল শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিষ্ণুপুর জেলায় আসাম রাইফেলসের একটি টহলদল অতর্কিত হামলার শিকার হয়। এ ঘটনায় বাহিনীর দুই সদস্য নিহত হয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নম্বল পুলিশ স্টেশনের আওতাধীন নম্বল সাবল লেইকাই এলাকায় বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে এ হামলা ঘটে। ইম্ফল থেকে বিষ্ণুপুরমুখী আসাম রাইফেলসের একটি টাটা ৪০৭ গাড়িকে লক্ষ্য করে অজ্ঞাতনামা বন্দুকধারীরা গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই একজন সেনা নিহত হন। গুরুতর আহত অপর জওয়ানকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনিও মারা যান।
সশস্ত্র ব্যক্তিরা মোটরসাইকেলে এসে ওত পেতে ছিল। হামলাটি এতটাই আকস্মিক ছিল যে জওয়ানরা প্রতিরোধের সুযোগ পাননি। কয়েক রাউন্ড গুলি চালিয়ে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
অতিরিক্ত মহাপরিচালক আশুতোষ কুমার সিনহা গণমাধ্যমকে বলেন,
“সব বাহিনীর শান্তি ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা সত্ত্বেও নিরাপত্তা বাহিনীকে টার্গেট করে হামলা চালানো হয়েছে।”
এ ঘটনায় আরও পাঁচজন আসাম রাইফেলস সদস্য আহত হয়েছেন। তাঁদের ইম্ফলের রিজিওনাল ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামলার পেছনে উপত্যকা-ভিত্তিক বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলোর হাত রয়েছে। তাঁর দাবি, সম্ভবত পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) এই হামলা চালিয়েছে। তবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। বর্তমানে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় বাহিনী যৌথভাবে এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক মণিপুর সফরের মাত্র ছয় দিন পর এ হামলার ঘটনা ঘটল। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৩ মে থেকে মণিপুরে জাতিগত সহিংসতা চলছে। এ পর্যন্ত বেসামরিক নাগরিক, সেনা ও পুলিশ সদস্যসহ ২৬০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন হাজারো মানুষ, বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ৬০ হাজার। সংঘাত চলাকালে ব্যাপক অগ্নিসংযোগ, গ্রাম ধ্বংস এবং পুলিশ–আধাসামরিক বাহিনীর অস্ত্রাগার লুটের ঘটনাও ঘটেছে।
সুত্রঃ এনডিটিভি