মার্কিন আইনজীবী অ্যাটর্নি এরিক সিবার্ট। ছবিঃ রয়টার্স
মেলবোর্ন, ২০ সেপ্টেম্বর-মার্কিন আইনজীবী অ্যাটর্নি এরিক সিবার্ট শুক্রবার পদত্যাগ করেছেন। সূত্র জানায়, নিউইয়র্ক অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে অস্বীকার করায় তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের মুখে পড়েছিলেন।
ভার্জিনিয়ার ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন অ্যাটর্নি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সিবার্ট আলেক্সান্দ্রিয়া অফিসের কর্মীদের কাছে পাঠানো এক ই-মেইলে নিজের পদত্যাগের ঘোষণা দেন। সেই ই-মেইলটি এবিসি নিউজ হাতে পেয়েছে।
তিনি লিখেছেন, “গত আট মাস ধরে আমি ন্যায়বিচারের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ ডিওজের সেরা কর্মীদের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেয়েছি। তোমাদের কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা, তোমাদের ত্যাগ ও প্রতিদিনের ন্যায়বিচারের প্রয়াসের জন্য আমি কৃতজ্ঞ।”
সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারই সিবার্টকে জানানো হয়েছিল প্রেসিডেন্ট তাকে বরখাস্ত করতে চান। শুক্রবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেন, তিনি চান সিবার্টকে “পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হোক।”
এবিসি নিউজের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প আসলে সিবার্টকে বরখাস্ত করতে চেয়েছিলেন কারণ তদন্তকারীরা লেটিশিয়া জেমসের বিরুদ্ধে মর্টগেজ জালিয়াতির কোনো প্রমাণ খুঁজে পাননি। অথচ ট্রাম্প প্রশাসন চেয়েছিল, স্পষ্ট প্রমাণ না থাকলেও সিবার্ট যেন জেমসের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “আমার মনে হয় তিনি (জেমস) কোনো না কোনো অপরাধে দোষী। তবে আমি নিশ্চিত নই।”
সিবার্টকে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, ভার্জিনিয়ার দুই ডেমোক্র্যাট সিনেটর তার মনোনয়ন সমর্থন করেছিলেন, তাই তিনি তাকে আর পদে রাখতে চান না। গত মে মাসে ট্রাম্প সিবার্টকে ওই পদে মনোনীত করেছিলেন এবং দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে তিনি ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি হিসেবে কাজ করছিলেন।
ট্রাম্প বলেন, “আমি যখন জানলাম তারা তাকে অনুমোদন দিয়েছে, তখনই বলেছিলাম তাকে সরাতে, কারণ তাতে কোনো ভালো নেই। আমি চাইনি যে তিনি ওই পদে থাকুন।”
যদিও সিবার্ট ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নির পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন, তিনি সহকর্মীদের জানিয়েছেন অফিসে সাধারণ প্রসিকিউটর হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে চান। তবে তিনি আগের সহকারী মার্কিন অ্যাটর্নির পদে ফিরতে পারবেন কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়।
সিবার্টের পদত্যাগে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অ্যাটর্নি অফিসটি আপাতত নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়েছে। কারণ তার ডেপুটিও ইতিমধ্যেই পদ ছেড়ে সাধারণ প্রসিকিউটর হিসেবে কাজ করছেন। ফলে এখনো স্পষ্ট নয়, অফিসটির দায়িত্ব কে নেবেন এবং নিয়মিত মামলার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা কার হাতে থাকবে।
সুত্রঃ এবিসি নিউজ