মেলবোর্ন, ২৩ সেপ্টেম্বর- যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা নাসা সম্প্রতি ১০ জন নতুন নভোচারীকে নির্বাচিত করেছে। চাঁদ ও মঙ্গলে মানবমুখী অভিযানকে আরও এগিয়ে নেওয়ার বড় পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই ঘোষণা এসেছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে। নির্বাচিত নভোচারীরা ভবিষ্যতে নাসার বিভিন্ন মহাকাশ অভিযান এবং পরীক্ষামূলক মিশনে অংশগ্রহণ করবেন।
নাসা জানিয়েছে, নির্বাচিত ১০ জন নভোচারীর মধ্যে বিভিন্ন পেশা ও দক্ষতার মানুষ রয়েছেন। এদের মধ্যে বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, পাইলট এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানী অন্তর্ভুক্ত। সকলেই কঠোর মানদণ্ডে নির্বাচিত হয়েছেন। নাসা জানিয়েছে, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র উৎকৃষ্ট দক্ষতা নয়, বরং বিভিন্ন দিক থেকে বৈচিত্র্যময় দল তৈরি করা।”
নাসার নভোচারী প্রোগ্রামের মুখপাত্র বলেছেন, নতুন এই দল চাঁদে Artemis মিশন এবং মঙ্গলের জন্য প্রাথমিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত হবে। এদের মধ্যে কেউ শীঘ্রই চাঁদে মাটির নমুনা সংগ্রহের জন্য যাত্রা করতে পারেন।
নাসা সম্প্রতি Artemis প্রোগ্রামের অধীনে চাঁদে মানুষের আবার পদার্পণ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এর পরবর্তী ধাপ হিসেবে দীর্ঘমেয়াদী গবেষণামূলক অভিযান এবং মঙ্গলে প্রস্তুতি মূলক মিশন রয়েছে। নতুন নভোচারীরা এই অভিযানে মূল ভূমিকা পালন করবেন।
নতুন নভোচারীরা একাধিক বছর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন। প্রশিক্ষণে থাকবে মহাকাশযান পরিচালনা, বিজ্ঞান পরীক্ষা, ভ্যাকুয়াম এবং মহাকাশ পরিবেশে টেকসই কার্যক্রম, জরুরি অবস্থায় সঙ্কট মোকাবিলা, এবং শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম।
নাসা জানিয়েছে, এই দলটি পুরুষ-নারী এবং বিভিন্ন জাতিগত পটভূমির মানুষ নিয়ে গঠিত। সংস্থার লক্ষ্য হলো মহাকাশ অন্বেষণকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বৈচিত্র্যময় করে তোলা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন নভোচারী দল চাঁদ এবং মঙ্গলের জন্য মানবমুখী অভিযানের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলবে। দীর্ঘমেয়াদে এদের কার্যক্রম শুধুমাত্র বৈজ্ঞানিক জ্ঞান বাড়াবে না, বরং পৃথিবী থেকে মহাকাশযান পরিচালনার কৌশল, নতুন প্রযুক্তি এবং মানবকল্যাণমূলক উদ্ভাবনেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
সুত্রঃ সিএনএন