মেলবোর্ন, ২৫ সেপ্টেম্বর- রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে হঠাৎ করেই অবস্থান বদলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এত দিন তিনি যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেনকে কিছু অঞ্চল ছাড় দেওয়ার পরামর্শ দিলেও এবার বলেছেন, রাশিয়ার দখল করা ভূখণ্ডগুলো পুনরুদ্ধার করতে পারে কিয়েভ।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে গত মঙ্গলবার নিউইয়র্কে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও তাঁর দেশ এখন বড় অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে। তাই ইউক্রেনের জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার এটাই উপযুক্ত সময়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমর্থনে নিজেদের পুরো ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারের সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্পের মন্তব্যের পরপরই প্রতিক্রিয়া জানায় রাশিয়া। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বুধবার বলেন, প্রেসিডেন্ট পুতিন ইউক্রেন নিয়ে যে লক্ষ্য স্থির করেছেন, তা পূরণ করতে রাশিয়া বিশেষ সামরিক অভিযান চালিয়ে যাবে। তিনি বলেন, “রাশিয়ার বর্তমান ও ভবিষ্যতের স্বার্থ রক্ষার জন্য এটি ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।”
ট্রাম্প রাশিয়াকে ‘কাগুজে বাঘ’ আখ্যা দেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় মস্কো। যদিও রাশিয়ার অর্থনৈতিক সমস্যার কথা আংশিক স্বীকার করেন পেসকভ, তবে তিনি দাবি করেন, দেশটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম হচ্ছে।
ট্রাম্পের নতুন অবস্থানে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন জেলেনস্কি। বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনা ছিল “ভালো ও গঠনমূলক।” ট্রাম্পের বক্তব্যকে তিনি একটি “বড় পরিবর্তন” হিসেবেও উল্লেখ করেন। পরে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র–ইউক্রেন এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও কাছাকাছি।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস ট্রাম্পের মন্তব্যকে “জোরালো ও ইতিবাচক বার্তা” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে পশ্চিমা দেশগুলোর অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে।
বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড রাশিয়ার দখলে, যার মধ্যে ২০১৪ সালে দখল হওয়া ক্রিমিয়াও রয়েছে। গত জানুয়ারিতে ট্রাম্প ক্ষমতায় বসার পর ইউক্রেনের প্রতি ওয়াশিংটনের সমর্থন কিছুটা কমে গেলেও তিনি যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে একাধিকবার মস্কো ও কিয়েভের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। গত মাসে আলাস্কায় পুতিনের সঙ্গে তাঁর বৈঠকে ঘনিষ্ঠতা প্রকাশ পাওয়ায় ইউক্রেন ও ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
তবে সর্বশেষ মন্তব্যে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে ইউক্রেনের পক্ষে দাঁড়ানোয় নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি হলো বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
সুত্রঃ রয়টার্স