জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক। ছবিঃ এপি
মেলবোর্ন, ২৫ সেপ্টেম্বর- অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ২০২৯-৩০ মেয়াদে একটি আসন পাওয়ার জন্য নতুন করে প্রচেষ্টা শুরু করেছেন। স্থানীয় সময় বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দফতরে দেওয়া প্রথম ভাষণে তিনি ২০২৮ সালের জুনে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের আগে পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হওয়ার জন্য অস্ট্রেলিয়ার আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেন।
আলবানিজ বলেন, “জাতিসংঘ কেবলমাত্র মহাশক্তিগুলোর একে অপরের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে ভেটো দেওয়ার জায়গা নয়। এটি মধ্যম শক্তি ও ছোট দেশগুলোর কণ্ঠস্বর তুলে ধরার এবং আমাদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের একটি প্ল্যাটফর্ম।”
নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য হলো: চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া সাধারণ পরিষদ প্রতি দুই বছরের জন্য আরও ১০টি দেশকে সদস্য নির্বাচিত করে। বর্তমানে এরা হলো: আলজেরিয়া, ডেনমার্ক, গ্রিস, গায়ানা, পাকিস্তান, পানামা, দক্ষিণ কোরিয়া, সিয়েরা লিওন, স্লোভেনিয়া ও সোমালিয়া।
জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী, নিরাপত্তা পরিষদের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা, সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপে আহ্বান এবং সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক বিরোধ তদন্ত করা। তবে স্থায়ী পাঁচ সদস্যের যেকোনো একজন ভেটো দিলে পরিষদ বিতর্কিত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়।
ষষ্ঠবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার প্রচেষ্টা
অস্ট্রেলিয়া সর্বশেষ ২০১৩-১৪ মেয়াদে পরিষদের সদস্য ছিল এবং তখনই এমএইচ১৭ বিমানে হামলার ঘটনায় বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ১৯৪৬ সালের পর থেকে দেশটি মোট পাঁচবার পরিষদের সদস্য হয়েছে। এবারও সফল হলে অস্ট্রেলিয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বড় ভূমিকা পালনের সুযোগ পাবে। তবে এ আসন পেতে দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাতে হয়। প্রকৃতপক্ষে এ প্রচারণা শুরু হয়েছিল ২০১৫ সালে, তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলি বিশপের সময়।
অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক আইন বিভাগের অধ্যাপক ডোনাল্ড রথওয়েল বলেন, গত মেয়াদে শক্তিশালী ভূমিকা রাখার কারণে অস্ট্রেলিয়ার পুনর্নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা ভালো। তিনি উল্লেখ করেন, এমএইচ১৭ বিমান বিধ্বস্তের পর ২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়া সরাসরি পরিষদে নিজের অবস্থান জোরালোভাবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছিল, যা ছিল বিশাল কূটনৈতিক সাফল্য।
যদিও অস্ট্রেলিয়া আগেই পরিষদে ফেরার আগ্রহ জানিয়েছিল, আলবানিজ এবার জাতিসংঘ মঞ্চে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু করেছেন। অধ্যাপক রথওয়েল বলেন, এখান থেকে শক্তিশালী কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাতে হবে এবং অস্ট্রেলিয়াকে পরিষদে কী কী বিষয় সামনে আনতে চায় তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে। এটি কার্যত এক ধরনের নির্বাচনী ইশতেহার, যেখানে বলা হয় নির্বাচিত হলে কোন কোন বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের লক্ষ্য হবে আগের সাফল্যগুলোকে ধরে রাখা। যেমন— আফগানিস্তানে নিরাপত্তা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া পরিচালনা করা, উত্তর কোরিয়ার মানবাধিকার পরিস্থিতিকে পরিষদে উত্থাপন করা এবং ছোট অস্ত্র ও হালকা অস্ত্র নিয়ে প্রথমবারের মতো প্রস্তাব উপস্থাপন ও আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া।
এক যৌথ বিবৃতিতে বিরোধী দলের নেতা সুসান লে এবং ছায়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেলিয়া ক্যাশ এ প্রচেষ্টাকে “যোগ্য লক্ষ্য” বলে উল্লেখ করেছেন। তারা বলেন, “জোট সবসময় অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় স্বার্থকে সমর্থন করবে এবং আমরা সরকারকে যেকোনোভাবে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।”
এর আগের প্রচারণা, যা শুরু করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাড, তার ব্যয় হয়েছিল আনুমানিক ২৫ মিলিয়ন ডলার।
সুত্রঃ এবিসি নিউজ; অনুবাদঃ ওটিএন বাংলা ডেস্ক