সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার। ছবি: রয়টার্স
মেলবোর্ন, ২৭ সেপ্টেম্বর- গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে সেখানে একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। এ প্রশাসনের নেতৃত্বে যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারকে বসানোর বিষয়ে আলাপ হয়েছে ।
যুদ্ধ–পরবর্তী গাজা পরিচালনায় অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠন।জাতিসংঘের সমর্থন ও আরব দেশগুলোর সহযোগিতা থাকবে।ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তরের আগপর্যন্ত প্রশাসন কার্যকর থাকবে।এক প্রস্তাবে টনি ব্লেয়ারকে প্রশাসনের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে
জাতিসংঘ অধিবেশনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও আরব নেতাদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ব্লেয়ারকে অন্তর্বর্তী প্রশাসনের প্রধান করার প্রস্তাবে সমর্থন দিয়েছে।
গত আগস্টে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন টনি ব্লেয়ার। বৈঠকে যুদ্ধ–পরবর্তী সময়ে গাজা কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
টনি ব্লেয়ারের কার্যালয় জানিয়েছে, তিনি এমন কোনো উদ্যোগ সমর্থন করবেন না, যা গাজার মানুষকে তাদের জমি বা ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করবে।
২০০৭ সালে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পর কয়েক বছর তিনি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া ও জাতিসংঘের হয়ে মধ্যপ্রাচ্য দূত হিসেবে কাজ করেন। তাঁর মূল কাজ ছিল ফিলিস্তিনে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের জন্য পরিবেশ তৈরি করা।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। পরবর্তীতে ফ্রান্স, ডেনমার্কসহ আরও কয়েকটি দেশও একই পদক্ষেপ নেয়।ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র এই স্বীকৃতির তীব্র সমালোচনা করে এটিকে হামাসকে পুরস্কৃত করার শামিল বলে মন্তব্য করেছে।যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, এই কূটনৈতিক বার্তা স্পষ্ট—ভবিষ্যতের শাসনব্যবস্থায় হামাসের কোনো স্থান নেই।
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ঘোষণা করেছেন, তিনি ট্রাম্পসহ বিশ্বনেতাদের সঙ্গে কাজ করে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রস্তুত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গাজার ভবিষ্যৎ শাসন কাঠামোয় হামাসের ভূমিকা থাকবে না এবং সংগঠনটিকে নিরস্ত্র হতে হবে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরায়েলে প্রায় ১,২০০ জন নিহত হন এবং ২৫১ জন বন্দী হন। এরপর থেকে ইসরায়েল গাজায় ব্যাপক হামলা চালিয়ে আসছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব: ৬৫ হাজারেরও বেশি নিহত (অধিকাংশই নারী ও শিশু)। জাতিসংঘের কমিশনের অভিযোগ: ইসরায়েল গাজায় জাতিগত নিধন চালাচ্ছে (ইসরায়েল অভিযোগ অস্বীকার করেছে)
টনি ব্লেয়ারের নাম আলোচনায় আসায় গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সুত্রঃ বিবিসি