ইতালির দক্ষিণাঞ্চলের সিসিলি শহর থেকে শনিবার ১০টি নৌযানের একটি বহর গাজার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।ছবি: রয়টার্স
মেলবোর্ন, ২৯ সেপ্টেম্বর- আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিচ্ছে একটি নতুন নৌবহর। এতে রয়েছে খাদ্য, ওষুধ, পানীয় জল এবং জরুরি ত্রাণসামগ্রী, যা দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ও কয়েকটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান মিলে এই নৌবহর পাঠিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নৌবহরে রয়েছে একাধিক জাহাজ ও ছোট ট্রলার, যেগুলোতে কয়েক হাজার টন ত্রাণসামগ্রী বহন করা হচ্ছে। লক্ষ্য— গাজার বেসামরিক মানুষের হাতে সরাসরি সাহায্য পৌঁছে দেওয়া।
ইসরায়েলি অবরোধ ও চলমান সংঘর্ষে গাজার মানুষের জীবনযাত্রা ভয়াবহ সংকটে পড়েছে। হাসপাতালগুলোতে ওষুধের তীব্র ঘাটতি, পানির অভাব এবং খাদ্য সংকটে হাজারো মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও কার্যকর সমাধান হয়নি। এ অবস্থায় নতুন এই নৌবহর স্থানীয়দের কাছে আশার আলো হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে নৌবহরটির গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ, অতীতে ইসরায়েলি সেনারা এমন ত্রাণবাহী নৌযানকে আটকে দিয়েছে। এবারও একই আশঙ্কা করছে আয়োজকরা। তবু তারা জানায়, “মানবিক দায়িত্বের জায়গা থেকে আমরা পিছু হটব না। গাজার মানুষকে সাহায্য পৌঁছানো এখন সময়ের দাবি।”
জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তারা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও এর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, নৌবহরের নিরাপদ গমন নিশ্চিত করতে সকল পক্ষের সহযোগিতা জরুরি। অন্যদিকে, তুরস্ক ও কাতারসহ কয়েকটি দেশ প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছে।
গাজার অনেক মানুষ মনে করছেন, এ নৌবহর অন্তত সাময়িকভাবে তাদের দুর্দশা লাঘব করতে পারবে। একজন স্থানীয় বাসিন্দা গণমাধ্যমকে বলেন, “আমরা প্রতিদিন বেঁচে থাকার লড়াই করছি। যদি এই সাহায্য আমাদের হাতে পৌঁছে যায়, তবে সেটাই হবে আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় উপহার।”
সুত্রঃ এএফপি