মেলবোর্ন, ২৯ সেপ্টেম্বর- খাগড়াছড়ির সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনায় দলের নীরবতা ও ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অবশেষে জাতীয় কমিউনিস্ট পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রভাবশালী সংগঠক অলিক মৃ। দীর্ঘদিন ধরে এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এই নেতা রবিবার দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
অলিক মৃ তাঁর বিবৃতিতে বলেন, “খাগড়াছড়ির সাম্প্রতিক ঘটনায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নীরব থেকেছে। জনগণের পক্ষে সরব না হয়ে এ নীরবতা আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। আমি জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে এনসিপির সব পদ থেকে পদত্যাগ করছি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এনসিপির বর্তমান নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় তৃণমূল নেতাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না, যা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী।
কিছু দিন আগে খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি-বাঙালি উত্তেজনা ঘিরে সহিংসতা দেখা দেয়। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজনের প্রাণহানি হয়, আহত হন অনেকে। বাজার-ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এ নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠন ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এনসিপি আনুষ্ঠানিক কোনো অবস্থান নেয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।
অলিক মৃ’র পদত্যাগে স্থানীয় পর্যায়ে এনসিপি নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে এনসিপির প্রভাবশালী একজন নেতার সরে যাওয়া দলকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করে দেবে। আবার কেউ কেউ বলছেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সময়মতো অবস্থান নিলে এই সংকট তৈরি হতো না।
অলিক মৃ এখনো নতুন কোনো রাজনৈতিক দলে যোগদানের ঘোষণা দেননি। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের অধিকার ও ন্যায়বিচারের দাবিতে নতুনভাবে সংগঠিত হবেন। তাঁর ঘনিষ্ঠরা ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি স্থানীয় পর্যায়ে একটি নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার চেষ্টা করতে পারেন।
এনসিপির পক্ষ থেকে এখনো অলিক মৃ’র পদত্যাগ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খাগড়াছড়ির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলটির ভেতরে যে অসন্তোষ দীর্ঘদিন ধরে চাপা ছিল, অলিক মৃ’র সরে যাওয়া তা আরও স্পষ্ট করে তুলল।