লাটভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ভাইরা ভিকে-ফ্রেইবারগার নেতৃত্বে বিশ্বনেতাদের এক প্রতিনিধিদল ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের ফাঁকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। (ছবি: প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজ)
মেলবোর্ন, ২৯ সেপ্টেম্বর: আমি নেতিবাচক মন্তব্য করতে চাই না। তবে একটি বিষয় এড়িয়ে যেতে পারলাম না। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং প্রাণপণ চেষ্টা করছে তাঁর নিউ ইয়র্ক সফরের সাম্প্রতিক বৈঠকগুলোকে এমনভাবে উপস্থাপন করতে, যেন তা বাংলাদেশের জন্য রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পাওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সফর।
অথচ বাস্তবে এগুলো অনেকটাই ব্যক্তিগত প্রচারকে বৈধতা দেওয়ার প্রয়াস মাত্র। প্রথম আলো–এর একটা চামচামি শিরোনাম ছিল, “বিশ্বনেতাদের সাথে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসের প্রতি বিশ্বনেতাদের পূর্ণ সমর্থন।”
প্রশ্ন হলো, এখানে যেসব “বিশ্বনেতা”র নাম এসেছে, তারা কারা? স্লোভেনিয়া, সার্বিয়া, লাটভিয়া, বুলগেরিয়া, বসনিয়া, মরিশাসের সাবেক রাষ্ট্রপতি কিংবা ইউরোপীয় অঞ্চলের অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন রাজনীতিক এরা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কতটা প্রভাবশালী? বৈশ্বিক কূটনীতির পরিসরে এদের প্রভাব কতটুকু? তাহলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এদের সমর্থন কতটা কার্যকর হতে পারে?
আরেকটি প্রশ্ন অধ্যাপক ইউনূস নিজেই বলেছেন তিনি ফেব্রুয়ারিতে বিদায় নেবেন। যদি তাই হয়, তাহলে এই “সমর্থন” প্রদর্শনের প্রয়োজন কী? নাকি ভিন্ন কোনো পরিকল্পনার ইঙ্গিত আছে?
প্রধান উপদেষ্টা সহ তার প্রেস উইং হয়তো জনগণকে বোঝাতে চেয়েছেন তিনি একা নন, আন্তর্জাতিক মহলও তাঁর পাশে আছে। কিন্তু এখানে একটি মৌলিক সত্য উপেক্ষিত হয়েছে।
দেশের মানুষ কি সত্যিই এই আয়োজনের প্রতি আস্থা রাখে? দেশের খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, রিকশাওয়ালা বা কৃষকের কাছে গিয়ে যদি প্রশ্ন করা হয় তারা কি সত্যিই প্রধান উপদেষ্টাকে সমর্থন করেন?
প্রধান উপদেষ্টা আন্তর্জাতিক মহলে কফির আড্ডায় প্রশংসা পাচ্ছেন এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু এই বাহ্যিক সমর্থন দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় খুব একটা প্রভাব ফেলবে না। বাংলাদেশের মানুষ আজ নিত্যদিনের সংগ্রামে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনের শাসনের অনিশ্চয়তা আর ভবিষ্যতের অস্থিরতায় ক্লান্ত। তাঁদের আস্থা অর্জন না করে কেবল বিদেশি অবসরপ্রাপ্ত রাজনীতিকদের সাথে ছবি তোলা কিংবা প্রশংসার ঝাঁপি দেখিয়ে বৈধতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
প্রদীপ রায়, সম্পাদক, ওটিএন বাংলা