বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১ অক্টোবর- অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার এক সাক্ষাৎকারে হিন্দু নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। আজ এক বিবৃতিতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি জানায়, “প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে সত্যকে অস্বীকার করা হয়েছে,” যা দেশে ও বিদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি বারবার সংঘটিত নির্যাতনের বাস্তবতাকে আড়াল করার অপচেষ্টা।
ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি জানায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে মহাখালীতে ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সংঘটিত নির্যাতন ও সহিংসতা নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশনের মাধ্যমে তদন্ত করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা হবে। পরিষদ অভিযোগ করে, প্রধান উপদেষ্টার সাম্প্রতিক মন্তব্যে সেই ন্যায্য দাবি ও দীর্ঘদিনের আন্দোলনের গুরুত্বকে খাটো করা হয়েছে।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবিঃ সংগৃহীত
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের নির্বাচনের সময় এবং পরবর্তী সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর দফায় দফায় হামলা, মন্দির ভাঙচুর, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া এবং নারী-শিশু নির্যাতনের অসংখ্য ঘটনার প্রমাণ দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। এ বাস্তবতাকে অস্বীকার করা শুধু দুঃখজনকই নয়, বরং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকারকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দেবে।
ঐক্য পরিষদের নেতারা বলেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনের সময় সংঘটিত সহিংসতা ও নির্যাতনের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন এবং বিচার কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আস্থা ফিরবে না। তাই অবিলম্বে একটি বিশেষ কমিশন গঠনের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
সংগঠনটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মশিউর কুমার নাথ স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে জাতীয় দৈনিকসহ সব গণমাধ্যমে এ সংবাদ প্রচারের অনুরোধ জানানো হয়।