ইসলাম গ্রহণের কয়েক সপ্তাহ পর আবার হিন্দুধর্মে ফিরলেন উত্তর প্রদেশের আয়ুষ মালিক
মেলবোর্ন,১ জুলাই- ভারতের উত্তর প্রদেশের শামলি জেলার ওষুধ ব্যবসায়ী দেবরাজ মালিকের একমাত্র ছেলে আয়ুষ মালিক, যিনি কয়েক সপ্তাহ আগে ইসলাম গ্রহণ করে নিজের নাম মোহাম্মদ…
মেলবোর্ন, ২ অক্টোবর- ফিলিস্তিনের গাজার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া ত্রাণবাহী নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ এখন গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকিতে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মীদের নেতৃত্বে গঠিত এই বহর জানিয়েছে, তাদের থেকে মাত্র সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার দূরে ইসরায়েলি যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। অন্তত ২০টিরও বেশি ইসরায়েলি নৌযান ফ্লোটিলার আশপাশে অবস্থান করছে। যে কোনো সময় তারা হস্তক্ষেপ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলের প্রকাশ্য হুমকি উপেক্ষা করেই গাজার উপকূলের দিকে ত্রাণ নিয়ে এগোচ্ছে এই আন্তর্জাতিক নৌবহর। ফ্লোটিলার স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ইয়াসেমিন আকর জানিয়েছেন, বহরে থাকা ‘আলমা’ নামের জাহাজটি ইতোমধ্যে ইসরায়েলি ঘেরাওয়ের মধ্যে পড়েছে। আল–জাজিরাকে তিনি বলেন, “ইসরায়েলি নৌযান দুই দিক থেকে আলমাকে ঘিরে ফেলেছে। যে কোনো মুহূর্তে তারা জাহাজে হস্তক্ষেপ করতে পারে।”
‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ সমুদ্রপথে গাজায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার একটি বৈশ্বিক মানবিক উদ্যোগ। প্রায় ৪০টি ছোট নৌযানে গঠিত এই বহরে আছেন ৪৪ দেশের প্রায় ৫০০ মানুষ—এর মধ্যে রয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নির্বাচিত সদস্য, চিকিৎসক, আইনজীবী, সাংবাদিক, অধিকারকর্মী ও বিশিষ্ট নাগরিকেরা। উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আছেন সুইডিশ জলবায়ু আন্দোলনের কর্মী গ্রেটা থুনবার্গ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি ম্যান্ডলা ম্যান্ডেলা।
বাংলাদেশ থেকেও একজন রয়েছেন—আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। তিনি গত মঙ্গলবার ইতালির একটি বন্দর থেকে প্রধান নৌযান ‘কনশানস’-এ যোগ দেন এবং সেখান থেকেই যাত্রা শুরু করেন। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “আমরা মানবিক বার্তা নিয়ে যাচ্ছি, অস্ত্র নয়।”
ফ্লোটিলার প্রথম বহর ৩১ আগস্ট স্পেনের বার্সেলোনা থেকে যাত্রা শুরু করে। পরে তিউনিসিয়া, ইতালির সিসিলি দ্বীপ ও গ্রিসের সাইরাস দ্বীপ থেকে আরও কয়েকটি নৌযান এতে যুক্ত হয়। শুরুতে বহরে ৫০টির মতো জাহাজ থাকলেও ইসরায়েলি ড্রোন হামলা ও যান্ত্রিক ত্রুটিতে তা কমে ৪০-এ নেমে আসে।
এ ধরনের নৌবহর ইসরায়েল আগেও আটক করেছে। গত জুনে ‘ম্যাডলিন’ নামের একটি নৌযান আটক করা হয়, যেখানে গ্রেটা থুনবার্গসহ ১২ জন অধিকারকর্মী ছিলেন। জুলাইয়ে ‘হান্দালা’ নামে আরেকটি জাহাজ আটক করা হয়, যেখানে ১০ দেশের ২১ জন যাত্রী ছিলেন। আন্তর্জাতিক মহলে ইসরায়েলের এসব পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা হয়।
২০০৭ সালে হামাস গাজায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ইসরায়েল সমুদ্রপথে কঠোর অবরোধ আরোপ করে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজা কার্যত সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ। সামান্য পরিমাণে ত্রাণ ঢুকলেও মার্চের পর থেকে ইসরায়েল আবারও সবকিছু বন্ধ করে দিয়েছে।
ফ্লোটিলার আয়োজকেরা জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবার রাতে তাদের কয়েকটি নৌযান সাইবার হামলার শিকার হয়, ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। পরে আংশিকভাবে তা পুনরুদ্ধার করা হয়। একই রাতে দুটি ইসরায়েলি যুদ্ধজাহাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে এসে ‘আলমা’ ও ‘সাইরাস’ নামের দুটি নৌযান ঘিরে ফেলে আতঙ্ক তৈরি করে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সার এক্সে (পূর্বে টুইটার) লিখেছেন, “আমরা সতর্ক করছি, এখনো সময় আছে। আপনারা চাইলে ত্রাণসামগ্রী সাইপ্রাস, আশকেলন মেরিনা বা অন্য যে কোনো বন্দরে হস্তান্তর করতে পারেন।”
এর জবাবে ফ্লোটিলা কমিটি এক বিবৃতিতে বলেছে, “এই শত্রুতাপূর্ণ আচরণ ৪০টিরও বেশি দেশের নিরস্ত্র নাগরিকদের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। আমরা গাজার দিকে আমাদের যাত্রা অব্যাহত রাখব।”
ইতালি ও স্পেন ঘোষণা করেছে, তারা উদ্ধার ও মানবিক সহায়তার জন্য নৌবাহিনীর জাহাজ প্রস্তুত রেখেছে, যদিও কোনো সামরিক পদক্ষেপে তারা অংশ নেবে না। তুরস্কও ড্রোনের মাধ্যমে ফ্লোটিলার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে।
এদিকে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, “বিশ্বের সব রাষ্ট্রের দায়িত্ব এই ফ্লোটিলার নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করা। তাদের উচিত, ইসরায়েলের অবৈধ অবরোধ ও হামলার বিরুদ্ধে কূটনৈতিক চাপ বাড়ানো।”
মার্কিন কংগ্রেসের ২০ জন সদস্যও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে চিঠি দিয়ে ফ্লোটিলার নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছেন। চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ, রাশিদা তালিব ও ইলহান ওমরসহ বেশ কয়েকজন প্রগতিশীল আইনপ্রণেতা।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, আজ বৃহস্পতিবার সকাল নাগাদ ইসরায়েলি বাহিনী সুমুদ ফ্লোটিলার নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। ফ্লোটিলা যত গাজার উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, ভূমধ্যসাগরের উত্তেজনাও তত বাড়ছে। বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে—ইসরায়েল কি আবারও মানবিক সহায়তার পথ রক্তাক্ত করবে?
সূত্র: আল–জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au