গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলায় ইসরায়েলের হামলার সময় বুধবার আটক করা হয় গ্রেটা থুনবার্গ (মাঝে), থিয়াগো আভিলাসহ (ডানে) অধিকারকর্মীদের। ছবি: এএফপি
মেলবোর্ন, ৩ অক্টোবর- ফিলিস্তিনের গাজায় মানবিক ত্রাণ পৌঁছে দিতে যাত্রা করা বৈশ্বিক নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ ইসরায়েলি সেনাদের হামলার মুখে পড়ে। আক্রমণের পর ফ্লোটিলার প্রায় সব নৌযান থামিয়ে দিয়ে অধিকারকর্মীদের আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সুইডিশ জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গও রয়েছেন। ঘটনাটিকে অনেক দেশ ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছে এবং বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।
ফ্লোটিলাটি গত ৩১ সেপ্টেম্বর স্পেন থেকে গাজামুখী যাত্রা শুরু করে। পরে তিউনিসিয়া, ইতালি ও গ্রিস থেকে যুক্ত হওয়া নৌযানসহ মোট ৪০টিরও বেশি জাহাজে চিকিৎসাসামগ্রী, খাদ্য ও আশ্রয় সামগ্রী বহন করা হচ্ছিল। গত বুধবার রাতে গাজা উপকূল থেকে ১২৯ কিলোমিটার দূরে ইসরায়েলি নৌবাহিনী ফ্লোটিলাকে আটকে দেয়।
সেনারা একে একে নৌযানে প্রবেশ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং জলকামান দিয়ে আক্রমণ চালায়। ভিডিওতে দেখা যায়, ইসরায়েলি সেনারা অধিকারকর্মীদের দিকে বন্দুক তাক করে রেখেছে।
৪৪টি দেশের প্রায় ৫০০ আরোহীর মধ্যে ছিলেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য, আইনজীবী, সাংবাদিক, চিকিৎসক ও মানবাধিকারকর্মীরা। আটক হওয়ার আগে গ্রেটা থুনবার্গ এক ভিডিওবার্তায় বলেন, “আমাকে অপহরণ করা হয়েছে। আমাদের যাত্রা ছিল অহিংস ও আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে। সরকারগুলোকে আমার ও অন্যদের মুক্তির দাবি জানাতে বলুন।”
ইসরায়েল আটক কর্মীদের দক্ষিণাঞ্চলের কোতজিওত কারাগারে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করছে বলে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
ইসরায়েলের এ পদক্ষেপে তুরস্ক, কলম্বিয়া, মালয়েশিয়া, পাকিস্তানসহ বহু দেশ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। কলম্বিয়া ইসরায়েলের সব কূটনীতিক বহিষ্কার ও মুক্তবাণিজ্য চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ হয়েছে। ইতালিতে আজ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহল বলছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় মানবিক ত্রাণবাহী বহরে হামলা স্পষ্টতই আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। ২০১০ সালে ‘গাজা ফ্রিডম ফ্লোটিলা’তে ইসরায়েলি সেনাদের হামলায় ১০ জন অধিকারকর্মী নিহত হয়েছিলেন। এরপর ২০১১, ২০১৫, ২০১৮ ও ২০২৪ সালেও একাধিক নৌবহর আটক করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজায় চলমান অবরোধ ও মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে এবারকার হামলা আরও ভয়াবহ আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করবে।
সুত্রঃ রয়টার্স