মেলবোর্ন, ৩ অক্টোবর- মধ্যপ্রাচ্যের জটিল সংকট সমাধানে নিজের ভূমিকাকে ঐতিহাসিক হিসেবে তুলে ধরলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গাজা যুদ্ধ নিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে হোয়াইট হাউসে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমি এমন একটি পরিকল্পনা নিয়ে এসেছি, যা মধ্যপ্রাচ্যের ৩ হাজার বছরের সংঘাতের সমাধান করবে।”
ট্রাম্পের ঘোষণায় তিনি এটিকে মানবসভ্যতার ইতিহাসের অন্যতম ‘মহান দিন’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর প্রশাসনের প্রস্তাবিত ২০ দফা পরিকল্পনায় রয়েছে—ইসরায়েলের ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহার, আন্তর্জাতিক বাহিনীর গাজা উপত্যকার নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ, বন্দি বিনিময় এবং ফিলিস্তিনিদের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষাকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি।
তবে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ট্রাম্পের ভাষা যতটা আশাবাদী, বাস্তবতা ততটাই কঠিন। পরিকল্পনায় হামাসকে অস্ত্র ত্যাগ ও ভবিষ্যতের শাসন থেকে বিরত থাকার শর্ত দেওয়া হয়েছে, যা তাদের দীর্ঘদিনের ‘রেড লাইন’-এর সরাসরি বিরোধী। এ কারণে হামাস প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যে কয়েকটি আরব ও মুসলিম দেশ পরিকল্পনার প্রশংসা করেছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, হামাস যদি প্রস্তাব না মেনে নেয়, তাহলে ইসরায়েল যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার বৈধতা পাবে এবং নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্ত হবে। আর হামাস সম্মতি দিলে নেতানিয়াহুর জন্য রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি হতে পারে।
ট্রাম্প অবশ্য আত্মবিশ্বাসী। তাঁর ভাষায়, “আমরা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে শান্তির কাছাকাছি।”