মেলবোর্ন, ৩ অক্টোবর- গাজার বিভিন্ন অংশে ইসরায়েলের আরো তীব্র বিমান ও স্থল হামলার ফলে একদিনে কমপক্ষে ৫৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, জানিয়েছেন স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছেন এবং উপরোক্ত সংখ্যাটি প্রতিটি আঘাতের পরে বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হামলার লক্ষণীয় কোনো বাছাই ছাড়াই চলেছে—অভিযানে আল–বুরেইজ, দেইর আল-বালাহ ও গাজার অধিগভির এলাকায় বেসামরিক বসতি লক্ষ্য করা হয়েছে। একাধিক স্থানে আবাসিক ভবন ধ্বসিত ও জনবহুল আশ্রয়কেন্দ্র লক্ষ্যবস্তুতে পড়ে ব্যাপক ধ্বংস ঘটেছে।
এই বৃদ্ধি ঘটে এমন এক সময়ে যখন আন্তর্জাতিক তোলপাড় সৃষ্টি করা গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা–কে ইসরায়েল নৌবাহিনীর বাধা দিয়েছে এবং বহরের অধিকাংশ নৌযান থামিয়ে দিয়েছে—এমন পরিস্থিতিতে গাজার তীব্র খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রীর অভাব আরও ঘনীভূত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সাহায্য পৌঁছানো কঠিন হওয়ায় স্থানীয় মানুষদের দুর্দশা বাড়ছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় হামলার নিন্দা জানাচ্ছে এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে অবিলম্বে বাধা সরানোর দাবি তুলেছে। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন ত্রাণ সংস্থা গাজায় জরুরি নিবার্চন, নিরাপদ করিডোর ও তাত্ক্ষণিক অস্থায়ী ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সামগ্রিক হিসাব অনুযায়ী, গত প্রায় দুই বছরের সংঘর্ষে হতাহতের সংখ্যা লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে—মানবিক সংকট গুরত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতিদিনের মৌলিক চাহিদা মেটানোও কঠিন হয়ে উঠেছে। বিরতিহীন সহিংসতা ও অবরোধের কারণে খাদ্যাভাব, পরিষ্কার পানির ঘাটতি ও চিকিৎসা সেবা স্থবির হয়ে পড়েছে।
গাজায় ইসরায়েলের সাম্প্রতিক লড়াই–অভিযানে একদিনে কমপক্ষে ৫৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন; বেসামরিক ক্ষতি ও মানবিক সংকট মারাত্মকভাবে বাড়ছে, বিশ্ব দরবারে পুনরায় সহায়তা পৌঁছানোর ডাক উঠেছে।