মেলবোর্ন, ৩ অক্টোবর- ইসরায়েলি নৌবাহিনী রবিবার (৩ অক্টোবর ২০২৫) গাজা অভিমুখী আন্তর্জাতিক মানবতাবিড় ফ্লোটিলারটির শেষ জাহাজ ‘মারিনেট’ (Marinette) ঘরে—অর্থাৎ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এবং সেটি আশদোদের দিকে পরিচালিত করা হয়েছে। এই অভিযানের ফলে গত কয়েকদিন ধরে সমুদ্রপথে চলা মোট প্রায় ৪২টি জাহাজের অভিযান সম্পূর্ণভাবে প্রতিহত হওয়া জানানো হয়েছে।
ফ্লোটিলার সংগঠকরা বলছেন, জাহাজগুলোতে সুনির্দিষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত সরঞ্জাম ও ত্রাণসামগ্রী ছিল—তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষকে সেইসব জাহাজ ‘বৈধ নৌনাবদ্ধতা ভাঙার চেষ্টা’ বলে অভিহিত করেছে এবং কর্মীদের গ্রেফতার করে তৎক্ষণাতই হস্তান্তর বা депোর্টেশনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, অভিযান চলাকালে নৌবাহিনী আন্তর্জাতিক পানিতে জাহাজগুলোতে উঠে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল।
এ ব্যাপারে এতোদিনের রিপোর্টগুলো বলছে—সমগ্র অভিযানে আনুমানিক ৪৫০ জনেরও বেশি বিদেশি সক্রিয়তাবাদীকে আটক করা হয়েছে; আকর্ষণীয়ভাবে এই দলে সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ সহ নানা দেশের রাজনীতিবিদ, আইনজীবী ও চিকিৎসকরা ছিলেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েলি প্রশাসন প্রথম দফায় ইতালির চার নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানোর কথা নিশ্চিত করেছে এবং বাকিদেরও দ্রুত প্রক্রিয়ায় পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
ফ্লোটিলার আয়োজনকারীরা দাবি করেছেন যে তাদের উদ্দেশ্য ছিল সম্পূর্ণভাবে মানবিক ও প্রতীকী—গাজায় সীমাহীন রণকাণ্ড ও নরক অবস্থা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক নজর আকর্ষণ করা। তবে ইসরায়েল এই অভিযানে ফ্লোটিলাকে ‘উত্তেজক ও বেআইনি চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে দেখেছে এবং আনুষ্ঠানিক চ্যানেল ছাড়া ত্রাণ সরবরাহে আপত্তি জানিয়েছে। এই সিরিজ অভিযান ২০০৯ সালের পর সবচেয়ে ব্যাপক সামুদ্রিক উত্তেজনার রূপ নিল বলে বিশ্লেষকরা বলছেন।
ইসরায়েলের ওই অভিযান আন্তর্জাতিকভাবে বিক্ষোভ ও তীব্র সমালোচনার ঝড় তুলেছে—ইউরোপ, ল্যাটিন আমেরিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে ফ্লোটিলার কর্মসূচির সমর্থনে প্রতিবাদ করেছে। সমর্থকরা অভিযানের ওপর “অবৈধ জবরদস্তি” ও গুমরাহকারী আচরণ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন; একই সঙ্গে কিছু দেশ ও কূটনৈতিক মঞ্চে ঘটনার আইনি ও নৈতিকতাসহ তদন্তের দাবি উঠেছে।
অবশেষে, সরবরাহ ও ত্রাণ পৌঁছানোর জন্য ইসরায়েল সরকারের বলাবলি — যে তারা আনুষ্ঠানিক ও নিয়ন্ত্রিত চ্যানেলের মাধ্যমে সাহায্য পৌঁছে দেবে — সেটি কার্যকর করা হবে কী না এবং আটককৃত কর্মীদের ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে পরবর্তী প্রকাশ্য ধাপগুলো কি হবে, তা এখন আন্তর্জাতিক মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে; সাম্প্রতিক তথ্যের জন্য স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের আপডেট অনুসরণ করা উচিত।
সুত্রঃ আল–জাজিরা