যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পতাকা। ছবি: রয়টার্স
মেলবোর্ন, ৩ অক্টোবর- ভারত ও চীনের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই এবার আলোচনায় এসেছে ‘টেক ভিসা’ বা প্রযুক্তি ভিসা ইস্যু। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বেইজিংয়ের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে, যাতে চীনা প্রযুক্তিবিদ ও উদ্যোক্তাদের জন্য সীমিত আকারে ভিসা চালুর পথ খোলা যায়। মূলত ভারতীয় বাজারে উচ্চপ্রযুক্তি, টেলিকম ও স্টার্টআপ খাতে দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি পূরণের দিক বিবেচনায় এই উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।
চীনের সাধারণ নাগরিক ও প্রযুক্তি খাতের পেশাজীবীদের মধ্যে এ খবরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
অনেকেই এটিকে সতর্ক আশাবাদী দৃষ্টিতে দেখছেন। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিনের সীমান্ত উত্তেজনা ও অবিশ্বাস সত্ত্বেও প্রযুক্তি সহযোগিতা দুই দেশের জন্যই লাভজনক হতে পারে। ভারতীয় বাজারে প্রবেশ করলে চীনা কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
তবে অন্য একটি অংশ বিষয়টিকে সন্দেহ ও শঙ্কা নিয়ে দেখছে। তাঁদের আশঙ্কা, নিরাপত্তাজনিত অজুহাতে ভারত হয়তো কঠোর নজরদারি বা সীমিত অনুমতি দেবে, যা প্রকৃত সহযোগিতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। আবার অনেকের মতে, এটি হয়তো কেবল কূটনৈতিক ইঙ্গিত মাত্র—বাস্তবে প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়ন কঠিন হবে।
২০২০ সালের সীমান্ত সংঘর্ষের পর থেকে ভারত চীনা নাগরিকদের জন্য ভিসা নীতিতে উল্লেখযোগ্য কড়াকড়ি আরোপ করে। অনেক চীনা টেক কোম্পানির ওপরও নিয়ন্ত্রণ কঠোর করা হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ার সাথে সাথে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন খাতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রযুক্তি ভিসা চালু হলে তা কেবল অর্থনৈতিক নয়, কূটনৈতিক দিক থেকেও দুই দেশের সম্পর্কে ‘সফট ল্যান্ডিং’ এর ইঙ্গিত বহন করবে। তবে এই উদ্যোগ সীমান্ত রাজনীতি, সাইবার নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থের মতো সংবেদনশীল ইস্যুর কারণে কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
আপাতত বেইজিংয়ের প্রযুক্তি মহল বিষয়টিকে সম্ভাবনা হিসেবে দেখছে, তবে বাস্তবায়নের ধাপগুলো সামনে আসা পর্যন্ত সাধারণ চীনা নাগরিকদের মনোভাব সতর্ক, মিশ্র ও অপেক্ষামূলক।
সুত্রঃ বিবিসি