অর্থনৈতিক যুদ্ধ মোকাবিলায় টাস্কফোর্স গঠন করল ইরান
চলমান সংঘাতের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ টাস্কফোর্স গঠন করেছে ইরান। অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে যুদ্ধের প্রভাব দ্রুত শনাক্ত করে তা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ…
মেলবোর্ন, ৫ অক্টোবর- চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পাহাড়ি এলাকা দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার ভোরে জঙ্গলছলিমপুরের আলিনগরে এই সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে রোকন বাহিনীর এক সদস্যকে, তবে নিহতের নাম-পরিচয় এখনো জানা যায়নি। সংঘর্ষের পর রোকন বাহিনীর ১৫ থেকে ২০ জন সদস্যকে রাত পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলিনগর এলাকা দীর্ঘদিন ধরে মো. ইয়াছিনের নিয়ন্ত্রণে ছিল। শনিবার ভোরে উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রোকন উদ্দিন ও গোলাম গফুরের নেতৃত্বে ছলিমপুর, ফৌজদারট, আল মদিনা, সিডিএ, ফকিরহাট, বাংলাবাজার ও শেরশাহ এলাকা থেকে শতাধিক অস্ত্রধারী এসে ওই এলাকা দখলের চেষ্টা করে। ইয়াছিনের অনুসারীরা এতে বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গোলাগুলির সময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গুলিবিদ্ধদের মধ্যে অনেককে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়, কিছুজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে রোকন বাহিনীর একজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, গুলিবিদ্ধ ১৩ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন—জাবেদ (৩৮), জাকির (৪৮), তানভীর (২৩), সিরাজুল ইসলাম (৪৩), ফজলুল করিম, ইসমাইল হোসেন বাবু (৩০), জাহিদুল ইসলাম (১৯), সৌরভ বড়ুয়া (১৭), পারভেজ (২০), নুরুল আলম (৪০), শুক্কুর আলম (২২), রায়হান (১৮) ও শামীম (২৯)। তাদের মধ্যে কোন পক্ষের সদস্য, তা এখনও জানা যায়নি।
উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রোকন উদ্দিন দাবি করেছেন, ভূমিদস্যু ইয়াছিনের লোকজন ছিন্নমূল এলাকা থেকে ১৫ জন বাসিন্দাকে ধরে বেদম মারধর করে, এতে একজন মারা গেছেন। তিনি বলেন, “যারা আক্রান্ত হয়েছেন তারা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই।”
ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক সোহেল রানা জানান, পাল্টা আক্রমণে প্রায় ১৫ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় এলজি, দুটি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন, আটটি শটগানের গুলি, একটি চাপাতি, একটি লোহার হাতুড়ি এবং পিস্তলের তিনটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও কোনো পক্ষ অভিযোগ দেয়নি, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সীতাকুণ্ড সার্কেল) লাবিব আবদুল্লাহ বলেন, “দুই গ্রুপের সংঘর্ষে একজন মারা গেছেন। তার পরিচয় নিশ্চিত নয়, তবে গুলিবিদ্ধদের মধ্যে ১৩ জনের নাম জানা গেছে।”
এদিকে, ছলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ শাহাদাত অভিযোগ করেছেন, রোকন বাহিনীর সদস্যরা তাঁর বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে তাঁর বাড়ির ভবনের ইট ও রড খুলে নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেছেন। ফেসবুকে ভিডিও বার্তায় শাহাদাত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেছেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পাহাড়ি এলাকায় জমি দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। বর্তমানে এলাকা পুলিশ ও র্যাবের টহলে উত্তেজনা কিছুটা কমলেও পরিস্থিতি এখনো থমথমে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au