জম্মু কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্টের (জেকেএলএফ) চেয়ারম্যান ইয়াসিন মালিক এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। ভারত–নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে। ছবি: আল–জাজিরা
মেলবোর্ন, ৫ অক্টোবর- কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামী নেতা ইয়াসিন মালিককে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সম্প্রতি একটি হাইকোর্টে দেওয়া শপথপত্রে মালিক দাবি করেছেন, তিনি ভারতের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে বহু বছর ধরে যোগাযোগ রেখেছেন এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের আলোচনায় অংশ নিয়েছেন।
মালিক তাঁর শপথপত্রে উল্লেখ করেছেন যে, ২০০৬ সালে পাকিস্তানভিত্তিক সংগঠন লস্কর-ই-তাইবা (LeT)–এর নেতা হাফিজ সইদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়েছিল ভারতীয় সরকারের অনুমতি ও উদ্যোগে। মালিকের দাবি, ওই সময়ের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এই যোগাযোগের বিষয়ে অবগত ছিলেন এবং এমন বৈঠককে “রাজনৈতিক আলোচনার অংশ” হিসেবে দেখেছিলেন।
মালিক আরও বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি কোনো বিদেশি শক্তির হয়ে কাজ করিনি; বরং ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কাশ্মীরের শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করেছি।”
তবে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বা গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, মালিক অতীতে একাধিক সরকারের সঙ্গে ব্যাকচ্যানেল যোগাযোগে ছিলেন, কিন্তু তাঁকে “গোয়েন্দা এজেন্ট” বলা যায় কি না—তা এখনো প্রমাণিত নয়।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ইয়াসিন মালিককে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের দায়ে ভারতের আদালত আজীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে। তিনি বর্তমানে দিল্লির তিহার কারাগারে বন্দী।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মালিকের এই নতুন শপথপত্র কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের অতীত নীতির ওপর নতুন প্রশ্ন তুলেছে। যদি তাঁর দাবি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে এটি কেবল কাশ্মীরের রাজনীতি নয়, বরং ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কৌশল নিয়েও বড় বিতর্ক সৃষ্টি করবে।
সুত্রঃ আল জাজিরা