মেলবোর্ন,৬ অক্টোবর- ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলায় প্রবল বৃষ্টিপাতে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে। টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে ভূমিধস ও ঘরবাড়ি ধসে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও কয়েকজন।
শনিবার সন্ধ্যা থেকে টানা বৃষ্টি শুরু হয়েছে দার্জিলিং, কালিম্পংয়ে। তাতেই বিধ্বস্ত পাহাড়ের বহু জায়গা। বহু জায়গায় ধস নেমে রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। সবচেয়ে নাজুক অবস্থা হয়েছে মিরিক অঞ্চলে। রাতের টানা বৃষ্টিতে দুধিয়া ও মিরিকের মাঝামাঝি একটি লোহার সেতু ভেঙে পড়ে নদীতে।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, তিস্তার পানি বেড়ে উঠে এসেছে জাতীয় সড়কে। তিস্তাবাজারের কাছে ২৯ মাইল ভালুখোলায় তিস্তার পানি উঠে বন্ধ হয়ে গেছে ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক। এ ছাড়া রাতে মিরিক ও দুধিয়ার মাঝের লোহার সেতুর একাংশ বৃষ্টিতে ভেঙে গেছে। ফলে শিলিগুড়ি থেকে মিরিকের যোগাযোগ বন্ধ। এমনকি দার্জিলিং শহরের সঙ্গেও যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানায়, শুক্রবার রাত থেকে টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ি এলাকার বিভিন্ন স্থানে ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। দার্জিলিং শহর ছাড়াও কালিম্পং ও কার্শিয়াং অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বহু ঘরবাড়ি ও রাস্তা মাটির নিচে চাপা পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তখনই সেতুর ওপর দিয়ে কিছু মানুষ চলাচল করছিলেন। মিরিকে প্রবল স্রোতে ভেসে যায় অন্তত ৯ জনেরও বেশি। তাঁদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আরও কয়েকজন নিখোঁজ, তাঁদের সন্ধানে চলছে তল্লাশি অভিযান।
রাজ্য সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তর জানায়, সেনাবাহিনী ও জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) উদ্ধারকাজে নেমেছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং আশ্রয়হীন মানুষদের স্কুল ও সরকারি ভবনে আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে।
আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দার্জিলিং ও পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি জেলাগুলোতে আরও বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসন স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।