নড়াইলে ৬ শিশুছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগ, মাদরাসাশিক্ষক গ্রেপ্তার
নড়াইল সদর উপজেলায় ছয় শিশুছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে এক মাদরাসাশিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এক ভুক্তভোগী শিশুর মায়ের করা মামলার পর গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকার গাছা থানা থেকে…
মেলবোর্ন, ৯ অক্টোবর- মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মানবাধিকারকর্মীরা। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল এবং গণমাধ্যমে যেভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্র তুলে ধরা হয়, বাস্তবে অবস্থা তার চেয়ে অনেক ভালো।
বুধবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে মানবাধিকার সংগঠন সপ্রাণ আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।
শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশের মানবাধিকার সম্পর্কিত প্রতিবেদনগুলো সাধারণত সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এসব প্রতিবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতা কতটা, তা প্রশ্নসাপেক্ষ। তিনি বলেন, “যে পত্রিকার রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদন তৈরি হয়, সেটি কতটা নির্ভরযোগ্য—সেটি বিবেচনা করা জরুরি।” তিনি আরও বলেন, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো আন্তর্জাতিক সংগঠনের সহায়তায় দেশের ঘটনাগুলোর সত্যতা যাচাই করা উচিত।
তিনি দাবি করেন, অনেক চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও অন্তর্বর্তী সরকার ভালো কাজ করছে। বক্তব্যের শেষেই জরুরি কাজের কথা জানিয়ে বৈঠক ত্যাগ করেন তিনি।
তবে তার বক্তব্যের সমালোচনা করেন উপস্থিত মানবাধিকারকর্মী ও রাজনীতিবিদরা। গুমসংক্রান্ত কমিশনের সদস্য ও মানবাধিকারকর্মী নূর খান বলেন, “সরকারের বয়ান শুনে আমি অসুস্থ বোধ করছি।”
তিনি বলেন, “প্রেস সচিব দাবি করেছেন, মানবাধিকার সংগঠনগুলো সংবাদপত্রের তথ্যের ওপর নির্ভর করে প্রতিবেদন তৈরি করে। অথচ সরকারি প্রশাসন যে রিপোর্ট তৈরি করে, সেটিকেই তিনি সত্য হিসেবে ধরে নিয়েছেন। সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা দুঃখজনক, বিশেষ করে একজন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিনিধির কাছ থেকে এমন কথা শোনা হতাশাজনক।”
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা সাইমুম পারভেজ বলেন, “প্রেস সচিব বলেছেন, ‘রিয়েলিটি ইজ বেটার।’ কিন্তু আমি মনে করি, রিয়েলিটি ইজ নট বেটার।” তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সময়কার মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা সংবাদপত্রের প্রতিবেদন থেকেই জানা গেছে। এখন যদি সংবাদপত্রের তথ্যই অবিশ্বাসযোগ্য বলা হয়, তাহলে সমালোচনার ভাষা বদলে ফেলতে হবে। “তাহলে কি নতুন প্রতিষ্ঠান ও নতুন রাষ্ট্রকাঠামো গড়ে তুলতে হবে?”—প্রশ্ন তোলেন তিনি।
মানবাধিকারকর্মী রেজাউর রহমান লেনিন বলেন, “প্রেস সচিব প্রবঞ্চনামূলক কথা বলেছেন। কথায় কথায় জাতিসংঘ, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বা অ্যামনেস্টিকে সামনে এনে সরকার বলছে, তারা যাচাই করে দেখুক—বাংলাদেশের প্রতিবেদন মিথ্যা। সরকারের এই অবস্থান দায়িত্বজ্ঞানহীন।”
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মানজুর-আল-মতিন বলেন, “শফিক ভাই যে লেন্সে বাংলাদেশকে দেখেছেন, সেই একই লেন্সে পুলিশও অনেক সময় ঘটনাকে দেখে। যেমন আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় পুলিশ বলেছিল, আন্দোলনকারীরাই তাকে হত্যা করেছে। এখন যদি সরকারও পুলিশের সেই ভাষ্যকেই একমাত্র সত্য বলে ধরে নেয়, তাহলে সেটা আমাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়।”
বৈঠকে বক্তারা বলেন, সরকারের দায়িত্ব পরিস্থিতি স্বীকার করে তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া। কিন্তু উল্টোভাবে মানবাধিকার প্রতিবেদন ও সংবাদমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা গণতান্ত্রিক প্রশাসনের মনোভাবকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে।
সুত্রঃ প্রথম আলো
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au