ওয়ান নেশন ‘শত্রু নয়’, মন্তব্যে অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক
মেলবোর্ন, ২৮ জুন- অস্ট্রেলিয়ার বিরোধী জোটের উপনেতা জেন হিউম বলেছেন, ওয়ান নেশন পার্টি এবং এর নেতা পলিন হ্যানসনকে তিনি রাজনৈতিক শত্রু হিসেবে দেখেন না। লিবারেল পার্টির…
মেলবোর্ন, ১৪ অক্টোবর- রাশিয়া ও ইউক্রেনের চলমান সংঘাত নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করায় ইউরোপজুড়ে আবারও গ্যাস ঘাটতি ও অর্থনৈতিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাশিয়ার গ্যাস রপ্তানি সীমিতকরণ এবং ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ধারাবাহিক হামলার ফলে ইউরোপের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা গুরুতর চাপে পড়েছে।
ইউক্রেন সরকার জানিয়েছে, গত সপ্তাহে রাশিয়া ডজনখানেক মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনের গ্যাস সঞ্চয় কেন্দ্র ও বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রগুলোর ওপর। এতে দেশটির বেশ কিছু অঞ্চল অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। ইউক্রেনের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, অন্তত ২৫ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ব্যাহত হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে।
মস্কো অবশ্য দাবি করছে, তারা শুধু সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করছে, বেসামরিক জ্বালানি অবকাঠামো তাদের লক্ষ্য নয়। তবে ইউক্রেন বলছে, রাশিয়া পরিকল্পিতভাবে শীতের আগেই তাদের জ্বালানি ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দিতে চাইছে, যাতে দেশটি যুদ্ধের পাশাপাশি মানবিক সংকটেও ভুগে পড়ে।
ইউক্রেন হয়ে ইউরোপে যে পরিমাণ রুশ গ্যাস সরবরাহ হয়, তা এখন আগের তুলনায় ৬০ শতাংশের বেশি কমে গেছে। ফলে জার্মানি, পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া ও হাঙ্গেরির মতো দেশগুলোতে গ্যাসের দাম আবারও বেড়ে চলেছে।
ইউরোপীয় কমিশন এক বিবৃতিতে বলেছে, “রাশিয়ার জ্বালানি অস্ত্রায়ন অব্যাহত রয়েছে, যা পুরো ইউরোপীয় অর্থনীতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেনের শিল্প খাত ও গৃহস্থালির জ্বালানি সরবরাহে বড় ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। শীত মৌসুম ঘনিয়ে আসায় গ্যাসের দাম আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউক্রেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, জ্বালানি সংকটের কারণে ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে মুদ্রাস্ফীতি ১৪ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা যুদ্ধকালীন সময়ে দেশের অর্থনীতিকে আরও বিপর্যস্ত করবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ইতিমধ্যে ইউক্রেনকে জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ ও গ্যাস সংরক্ষণের সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) সরবরাহ বৃদ্ধির পরিকল্পনাও করছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি পাওয়া গেলেও তার খরচ অনেক বেশি, যা দীর্ঘমেয়াদে ইউরোপীয় শিল্প ও সাধারণ জনগণের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াবে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) এক প্রতিবেদনে বলেছে, “রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখন শুধু সামরিক নয়, বরং জ্বালানি অর্থনীতির একটি নতুন যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে।”
এই সহায়তায় ইউক্রেনের ড্রোন বাহিনী রাশিয়ার ভেতরে গভীর হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে উফার বাশনেফট তেল শোধনাগারে সাম্প্রতিক হামলাকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে কিয়েভ।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au