ওয়ান নেশন ‘শত্রু নয়’, মন্তব্যে অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক
মেলবোর্ন, ২৮ জুন- অস্ট্রেলিয়ার বিরোধী জোটের উপনেতা জেন হিউম বলেছেন, ওয়ান নেশন পার্টি এবং এর নেতা পলিন হ্যানসনকে তিনি রাজনৈতিক শত্রু হিসেবে দেখেন না। লিবারেল পার্টির…
মেলবোর্ন, ১৪ অক্টোবর- জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ দ্বিতীয় বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত গাজা শান্তিচুক্তির ভেতরেই ‘শয়তান’ লুকিয়ে আছে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, চুক্তিটি যদি ফিলিস্তিনি জনগণের রাজনৈতিক অধিকার ও সার্বভৌমত্বকে যথার্থভাবে রক্ষা না করে, তবে সেটি বাস্তবে টেকসই শান্তি আনবে না বরং নতুন অনিষ্টের বীজ বোনে দেবে।
অ্যাম্মানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাদশাহ আবদুল্লাহ বলেন, “আমরা সকলে শান্তি চাই, কিন্তু এমন কোনো শান্তি নয় যা অন্যায়ের ভিত্তিতে দাঁড়াবে। চুক্তির তৎপর মোকাবিলা না করা হলে গাজার মানুষের ন্যায্য অধিকার ফুটে উঠবে না এটাই আমার প্রধান উদ্বেগ।” তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে চুক্তির কিছু ধারাসমূহ পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং ফিলিস্তিনিদের দীর্ঘমেয়াদি স্বায়ত্তশাসন ও রাজনৈতিক অধিকারের প্রতি জাতিসংঘ ভিত্তিক মর্যাদা নিশ্চিত করার তাগিদ রেখেছেন।
বাদশাহ বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের উচিত হবে চুক্তির কাগজে থাকা প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে পরিমিত, স্বচ্ছ ও টেকসই কৌশল নেয়া; নশ্বর অঙ্গীকারে নয়। তিনি সতর্ক করে যোগ করেছেন যে যদি চুক্তিটি একতরফা নিরাপত্তা বা সীমাবদ্ধ শর্ত আরোপ করে, তাহলে সেটি স্থানীয় জনগণের দুর্ভাগ্য ও দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার কারণ হতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জর্ডানের উদ্বেগের পেছনে কয়েকটি বাস্তব কারণ রয়েছে জর্ডান গাজা ও পশ্চিম তটের নিকট প্রতিবেশী, ফিলিস্তিনি শরণার্থী ও রাজনৈতিক সংবেদনশীলতায় জোড়া দায়িত্ব রয়েছে এবং ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত ম্যানেজ করার ক্ষেত্রে রাজ্যটির ভূমিকা ঐতিহাসিক। ব্রেকিং চুক্তি কিংবা ফিলিস্তিনি কর্তৃত্বে ক্ষতি হলে আশপাশের দেশগুলোর ওপর রাজনৈতিক ও মানবিক চাপ বাড়তে পারে এটাই জর্ডান না বলেই পারছে না।
বাদশাহর বক্তব্য প্রকাশের পরে অঞ্চলের কিছু আরব শাসক এবং রাজনৈতিক মহলও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অনেকেই বলছেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চুক্তির ধারাগুলো কেবল কাগজে থাকলে কার্যকর হবে না-প্রশাসনিক, কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত ব্যাবস্থাও প্রয়োজন।
অন্যদিকে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো বিশেষত মিসর ও কাতার চুক্তিটি বাস্তবায়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার ঘোষণা দিয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলো থেকে বলা হচ্ছে, চুক্তির তীর্যক সমালোচনাকে গুরুত্ব দিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে; তবে তারা আশা করছে চুক্তির রূপরেখা বাস্তবায়ন হলে দ্রুত মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে পারবে।
ফিলিস্তিনি রাজনীতিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখায় কিছু গোষ্ঠী চুক্তির বাস্তব প্রয়োগ দেখতে চান আর কিছু অংশই বলছে, কাগজে লেখা প্রতিশ্রুতি ছাড়াও রাজনৈতিক স্বীকৃতি, সীমান্ত-নিয়ন্ত্রণ এবং শাসন কাঠামোর ওপর সচেতন নজর থাকতে হবে। বাদশাহর বক্তব্যকে কিছু নেতা সমর্থনও করেছেন, কারণ তারা মনে করেন সর্বোচ্চ স্তরে এমন সতর্কবার্তা আন্তর্জাতিক চাপকে ভারসাম্যপূর্ণ করবে।
জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ মধ্যপ্রাচ্যে নীতি-প্রণেতা হিসেবে দীর্ঘদিন বিশ্বাসযোগ্য কণ্ঠস্বর। তাঁর এই মন্তব্য কেবল রাজকীয় বিস্ময় নয় এটি একটি কূটনৈতিক সতর্কবার্তা। যদি মধ্যপ্রাচ্যের মিত্ররা চুক্তির সম্ভাব্য অন্তর্নিহিত দুর্বলতা নাকচ না করে, তাহলে অচিত্রিত প্রতিক্রিয়া শুধু গাজাতেই নয়, সমগ্র অঞ্চলে উত্থিত হতে পারে। বিশেষত শরণার্থী স্রোত, সীমান্ত নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক প্রতিব্যথার কারণে জর্ডান সরাসরি প্রভাবিত হবে বলে ভাবা হচ্ছে।
জর্ডান ও অন্যান্য আরব রাষ্ট্রগুলোর পক্ষ থেকে চুক্তির পুনর্মূল্যায়ন ও পরিমার্জনের আহ্বান উঠতে পারে।
মিসর ও কাতার ইস্যুতে কূটনৈতিক ব্রিজ রোল বজায় রেখে দুই পক্ষের মধ্যে নির্ঝঞ্ঝাট বাস্তবায়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার চেষ্টা করবে।জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে চুক্তি বাস্তবায়নে তত্ত্বাবধান বাড়াতে বলা হতে পারে বিশেষত মানবিক তহবিল, পুনর্গঠন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায়।
বাদশাহ আবদুল্লাহর কড়া ভাষ্য ইঙ্গিত দেয় যে গাজা শান্তিচুক্তি যদি কেবল কাগজে থেকে যায় অথবা এতে ফিলিস্তিনিদের সার্বভৌম অধিকারের ক্ষতি ঘটে, তা শুধুমাত্র স্থানীয় শান্তি নয়, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকেও বিপন্ন করবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মধ্যস্থতাকারীদের এখন কাজটি হলো শক্তিহীন বাক্যে নয়, কার্যকর ও স্বচ্ছ বাস্তবায়ন পরিকল্পনা দেখিয়ে সন্দেহ কাটিয়ে তুলা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au