‘এ বছরই দেশে ফিরব’, দিল্লিতে সাক্ষাৎকারে জানালেন শেখ হাসিনা
মেলবোর্ন, ২৮ জুন- বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলতি বছরের মধ্যেই দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। ভারতের একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নানা বাধা ও…
মেলবোর্ন, ১৫ অক্টোবর- আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্তে নতুন করে সহিংস সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েক ডজন আহত হয়েছেন। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলি বিনিময়ের ফলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
আফগান সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, সংঘর্ষটি ঘটেছে কন্দহার প্রদেশের স্পিন বোলদাক সীমান্ত এলাকায়, যা পাকিস্তানের চামান সীমান্তের বিপরীতে অবস্থিত। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী একে অপরের দিকে ভারী অস্ত্র ও মর্টার নিক্ষেপ করে। গোলাগুলির শব্দ ঘন্টাব্যাপী শোনা যায় এবং স্থানীয় বাসিন্দারা চরম আতঙ্কে ঘরবন্দি হয়ে পড়েন।
আফগান কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, পাকিস্তানি বাহিনী প্রথমে আফগান ভূখণ্ডে গোলাবর্ষণ শুরু করে, যার ফলে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১২ বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও ২৫ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের একাধিক সদস্যও রয়েছেন।
অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার বলছে, আফগান দিক থেকেই প্রথমে গুলি ছোঁড়া হয়, যার জবাবে তারা পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আফগান সীমান্তের ভেতর থেকে কয়েকজন জঙ্গি পাকিস্তানি পোস্টে হামলা চালায়।
সংঘর্ষের পর সীমান্তবর্তী এলাকা জুড়ে দুই দেশের সেনারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। চামান ও স্পিন বোলদাক সীমান্ত ক্রসিং সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে এবং শত শত ট্রাক সীমান্তে আটকা পড়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই ঘটনাকে গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। জাতিসংঘের আফগান সহায়তা মিশন (UNAMA) উভয় দেশকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি করেছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা বেড়েই চলেছে। সীমান্ত রেখা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ, অস্ত্র ও জঙ্গি চলাচল নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং রাজনৈতিক অবিশ্বাস – এই সংঘর্ষের মূল কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে, স্থানীয় হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। চিকিৎসা সামগ্রী ও রক্তের ঘাটতির কারণে চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংঘর্ষ শুধু দুই দেশের সম্পর্ককেই নয়, বরং পুরো দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেও প্রভাবিত করতে পারে। সীমান্তে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে মানবিক সংকট আরও গভীর হতে পারে।
সূত্র : রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au