মেলবোর্ন, ১৬ অক্টোবর- ইরানে সশস্ত্র ডাকাতির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত তিন ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। দেশটির বিচার বিভাগ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই তিনজনকে রাজধানী তেহরানের কারাগারে ফাঁসি দেওয়া হয়।
ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ (IRNA) জানায়, দণ্ডপ্রাপ্তরা গত বছর তেহরান ও ইসফাহান মহাসড়কে একাধিক সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনায় জড়িত ছিলেন। এসব ঘটনায় কয়েকজন আহত হন এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী লুট হয়।
বিচার বিভাগের মুখপাত্র মাসুদ সেতায়েশি বলেন,“এরা সংগঠিত অপরাধচক্রের সদস্য ছিল, যারা সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা বিপন্ন করেছিল। আদালত প্রমাণের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করেছে।”
প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনজনকে গত বছর গ্রেপ্তার করা হয় এবং কয়েক মাসের বিচার শেষে তেহরানের বিপ্লবী আদালত তাদের বিরুদ্ধে ‘মোহারেবে’ (ঈশ্বর ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ) ধারায় মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়।
এই ধারা অনুযায়ী, সশস্ত্র ডাকাতি, সন্ত্রাস বা সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টি করার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা যায়।
বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সর্বোচ্চ আদালতও রায় বহাল রাখে এবং মঙ্গলবার ভোরে দণ্ড কার্যকর করা হয়।আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইরানের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে বলেছে,“ইরান আবারও মৃত্যুদণ্ডকে ভয় প্রদর্শনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এমন বিচার প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”
তবে ইরানের কর্তৃপক্ষ বলেছে, বিচার প্রক্রিয়া “ন্যায্যভাবে” সম্পন্ন হয়েছে এবং অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের পূর্ণ সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইরান বিশ্বের অন্যতম দেশে যেখানে প্রতি বছর সর্বাধিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।
শুধু ২০২৪ সালেই দেশটিতে ৭০০-এর বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, যার মধ্যে বেশিরভাগই মাদক, হত্যাকাণ্ড এবং সশস্ত্র অপরাধ সংশ্লিষ্ট।
ইরানি কর্মকর্তারা যুক্তি দেন যে, কঠোর শাস্তি অপরাধ দমনে সহায়ক ভূমিকা রাখে, বিশেষ করে সংগঠিত ডাকাতি ও মাদক পাচারের ক্ষেত্রে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইরানে মৃত্যুদণ্ডের উচ্চ হার দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার প্রতিফলন। যদিও সরকারের দাবি, এটি অপরাধ কমাতে সাহায্য করছে, মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে এতে ভয় ও দমননীতিই আরও প্রাধান্য পাচ্ছে।
সুত্রঃ এএফপি