সর্বশেষ

ইরানে সশস্ত্র ডাকাতির দায়ে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

  • 12:55 am - October 16, 2025
  • পঠিত হয়েছে:৮৫ বার
ছবি : রয়টার্স

মেলবোর্ন, ১৬ অক্টোবর- ইরানে সশস্ত্র ডাকাতির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত তিন ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। দেশটির বিচার বিভাগ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই তিনজনকে রাজধানী তেহরানের কারাগারে ফাঁসি দেওয়া হয়।

ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ (IRNA) জানায়, দণ্ডপ্রাপ্তরা গত বছর তেহরান ও ইসফাহান মহাসড়কে একাধিক সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনায় জড়িত ছিলেন। এসব ঘটনায় কয়েকজন আহত হন এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী লুট হয়।

বিচার বিভাগের মুখপাত্র মাসুদ সেতায়েশি বলেন,“এরা সংগঠিত অপরাধচক্রের সদস্য ছিল, যারা সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা বিপন্ন করেছিল। আদালত প্রমাণের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করেছে।”

প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনজনকে গত বছর গ্রেপ্তার করা হয় এবং কয়েক মাসের বিচার শেষে তেহরানের বিপ্লবী আদালত তাদের বিরুদ্ধে ‘মোহারেবে’ (ঈশ্বর ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ) ধারায় মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়।
এই ধারা অনুযায়ী, সশস্ত্র ডাকাতি, সন্ত্রাস বা সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টি করার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা যায়।

বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সর্বোচ্চ আদালতও রায় বহাল রাখে এবং মঙ্গলবার ভোরে দণ্ড কার্যকর করা হয়।আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইরানের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে বলেছে,“ইরান আবারও মৃত্যুদণ্ডকে ভয় প্রদর্শনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এমন বিচার প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”

তবে ইরানের কর্তৃপক্ষ বলেছে, বিচার প্রক্রিয়া “ন্যায্যভাবে” সম্পন্ন হয়েছে এবং অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের পূর্ণ সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইরান বিশ্বের অন্যতম দেশে যেখানে প্রতি বছর সর্বাধিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।
শুধু ২০২৪ সালেই দেশটিতে ৭০০-এর বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, যার মধ্যে বেশিরভাগই মাদক, হত্যাকাণ্ড এবং সশস্ত্র অপরাধ সংশ্লিষ্ট।

ইরানি কর্মকর্তারা যুক্তি দেন যে, কঠোর শাস্তি অপরাধ দমনে সহায়ক ভূমিকা রাখে, বিশেষ করে সংগঠিত ডাকাতি ও মাদক পাচারের ক্ষেত্রে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইরানে মৃত্যুদণ্ডের উচ্চ হার দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার প্রতিফলন। যদিও সরকারের দাবি, এটি অপরাধ কমাতে সাহায্য করছে, মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে  এতে ভয় ও দমননীতিই আরও প্রাধান্য পাচ্ছে।

সুত্রঃ এএফপি

এই শাখার আরও খবর

আওয়ামী লীগে শেখ সেলিমকে নিয়ে আলোচনা কেন

আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে শেখ ফজলুল করিম সেলিমকে ঘিরে। দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব প্রসঙ্গে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের পর…

ইরানের ২৭ এয়ারলাইনসহ ৩৬ প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

ইরানের বিমান চলাচল খাতকে সহায়তার অভিযোগে দেশটির ২৭টি এয়ারলাইনসহ মোট ৩৬টি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এই নিষেধাজ্ঞার ফলে…

রাজনৈতিক ইসলাম’ সাংবিধানিকভাবে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব আনছে অস্ট্রিয়া

অস্ট্রিয়ায় তথাকথিত ‘রাজনৈতিক ইসলাম’ সাংবিধানিকভাবে নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে একটি প্রস্তাব তৈরির কাজ শুরু করেছে দেশটির সরকার। চ্যান্সেলর ক্রিশ্চিয়ান স্টকার এ ধরনের আইন প্রণয়নের পক্ষে অবস্থান…

শরীর ম্যাসাজের কথা বলে রুমে ডেকে বলাৎকার, পালিয়ে বেরাচ্ছেন মাদ্রাসা শিক্ষক

রংপুরের কাউনিয়ায় একটি মাদ্রাসার এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের আবাসিক এক শিক্ষার্থীকে শরীর ম্যাসাজ করে দেওয়ার কথা বলে কক্ষে ডেকে নিয়ে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক…

শেষবার কি ছেলেকে দেখে যেতে পারবেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মা?

দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ শ্রীচিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মা বর্তমানে চট্টগ্রামের মা ও শিশু হাসপাতালে অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন। ছেলের কারাবন্দি জীবনের প্রায় দুই বছর পার…

বাংলাদেশে সার নিয়ে আসলে কী চলছে?

আমন মৌসুমে প্রয়োজনীয় সার না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন দেশের বিভিন্ন এলাকার কৃষক। কোথাও সার পাওয়া যাচ্ছে না, কোথাও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au