মেলবোর্ন, ১৬ অক্টোবর- ভেনিজুয়েলার উপকূলে আবারও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরে ভেনিজুয়েলার জলসীমায় একটি ছোট নৌযানে বিমান হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। নিহতদের মধ্যে তিনজন নাবিক ও তিনজন বেসামরিক জেলে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ভেনিজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ এক বিবৃতিতে বলেন,“আমাদের জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান অবৈধভাবে প্রবেশ করে এবং কোনো প্রকার উস্কানি ছাড়াই আমাদের একটি নৌযানকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। এটি আমাদের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত।”
তিনি আরও বলেন, ভেনিজুয়েলা এই হামলার “কঠোর জবাব” দেবে এবং জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করবে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানিয়েছে, হামলাটি “মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ”, এবং লক্ষ্য ছিল “অবৈধ অস্ত্র ও মাদক পাচারে জড়িত সশস্ত্র গোষ্ঠী”।
“আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে, ভেনিজুয়েলার নৌযানটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় ছিল এবং তা মাদক পাচারের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল,” বলা হয়েছে পেন্টাগনের বিবৃতিতে।
তবে ভেনিজুয়েলা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, ঘটনাস্থল স্পষ্টতই তাদের জাতীয় জলসীমার ভেতরে ছিল এবং নিহতদের কেউই পাচারচক্রের সঙ্গে যুক্ত নন।
হামলার পরপরই ভেনিজুয়েলার কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ক্ষতিগ্রস্ত নৌযানটি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।
এ ঘটনায় আরও দুইজন নিখোঁজ রয়েছে, যাদের সন্ধানে উদ্ধারকর্মীরা কাজ করছে।
কিউবা, নিকারাগুয়া ও বলিভিয়াসহ লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশ এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে।
কিউবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে,“যুক্তরাষ্ট্র আবারও সার্বভৌম রাষ্ট্রের ওপর আগ্রাসনের নীতি অনুসরণ করছে, যা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন।”
এদিকে জাতিসংঘের মুখপাত্র বলেছেন, সংস্থাটি ঘটনাটির পূর্ণ তদন্ত চায় এবং উভয় পক্ষকে “সংযম ও কূটনৈতিক সমাধানের পথ” অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে।
গত কয়েক মাসে ক্যারিবীয় উপকূলে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনিজুয়েলার মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো সরকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে এবং মাদক পাচার রোধের নামে অঞ্চলে নৌ টহল বাড়িয়েছে।
ভেনিজুয়েলা একে “আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা” বলে অভিযোগ করে আসছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হামলা দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও তিক্ত করে তুলবে। এটি শুধু আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকেই হুমকির মুখে ফেলবে না, বরং ক্যারিবীয় অঞ্চলে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।