মেলবোর্ন, ১৬ অক্টোবর- টানা সীমান্ত সংঘর্ষের পর পাকিস্তান ও আফগানিস্তান অবশেষে ৪৮ ঘণ্টার একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে উভয় দেশের সামরিক পর্যায়ের আলোচনার পর।
গত এক সপ্তাহ ধরে চমন ও তোর্খাম সীমান্তে উভয় দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে তীব্র গোলাগুলি চলছিল, যাতে অন্তত ৩০ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে বুধবার মধ্যরাত থেকে এবং তা শুক্রবার পর্যন্ত বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে ইসলামাবাদ।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র মুমতাজ জহরাহ বালুচ বলেন,
“দীর্ঘ আলোচনার পর উভয় পক্ষ ৪৮ ঘণ্টার জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, যাতে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো ও সীমান্ত পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা যায়।”
তিনি আরও জানান, পাকিস্তান চায় সীমান্তে স্থায়ী শান্তি ফিরে আসুক এবং উভয় দেশের জনগণ যেন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে।
অন্যদিকে আফগান অন্তর্বর্তী সরকার (তালেবান) এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে,
“আমরা শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই, তবে পাকিস্তানকেও সীমান্তে উসকানিমূলক কার্যকলাপ বন্ধ করতে হবে।”
গত সপ্তাহে আফগান সীমান্ত রক্ষীদের গুলিতে দুই পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর পাকিস্তানও পাল্টা গোলাবর্ষণ শুরু করে।
এই সংঘর্ষে উভয় দেশের বেশ কয়েকটি সীমান্ত পোস্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং শত শত গ্রামবাসী নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষের সময় বেশ কয়েকটি সীমান্ত পারাপার বাণিজ্য রুট বন্ধ হয়ে পড়ে, যার ফলে খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বিপর্যয় দেখা দেয়।
জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘের মুখপাত্র বলেন,
“পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তে স্থিতিশীলতা আঞ্চলিক শান্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এই যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানাই।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই যুদ্ধবিরতি যদি কার্যকরভাবে বজায় থাকে, তাহলে তা দুই দেশের মধ্যে চলমান অবিশ্বাস দূর করার পথে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হতে পারে।
তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, সীমান্ত নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতি—এই তিনটি ইস্যু শান্তি প্রক্রিয়াকে যেকোনো সময় নড়বড়ে করে তুলতে পারে।
সীমান্তে অস্থায়ী নীরবতা ফিরলেও পরিস্থিতি এখনও নাজুক। ইসলামাবাদ ও কাবুল উভয়ের পক্ষেই এই যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী শান্তির পথে রূপ দিতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে।
সুত্রঃ এএফপি