মেলবোর্ন ২১ অক্টোবর- সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলানগরের পে-কমিশন ভবনে জাতীয় পে-কমিশন ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠনের নেতাদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত চলা বৈঠকে শিক্ষকরা সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড বাস্তবায়ন, উচ্চতর গ্রেডের সমস্যা সমাধান, শতভাগ পদোন্নতি, চিকিৎসা–শিক্ষা ভাতা বৃদ্ধি, নতুন টাইমস্কেল পুনর্বহালসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন পে-কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান।
শিক্ষক নেতারা ৭ আগস্ট প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রেরিত সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডের প্রস্তাবনা বাস্তবায়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, প্রস্তাবনা কমিশনের কাছে থাকলেও বাস্তবায়নের সুযোগ খুব সীমিত। কারণ এটি মূলত সরকারি সার্ভিস কমিশনের আওতায়। তবে কমিশন প্রস্তাবনাটি নোট আকারে বিবেচনায় নিয়েছে।
শিক্ষক নেতারা ৬ সদস্যের পরিবারের খাদ্য, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয় বিবেচনায় নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব পেশ করেন। তারা ২০টি গ্রেড কমিয়ে ১২টি গ্রেড করার এবং সর্বনিম্ন বেসিক বেতন ৩৫ হাজার টাকা, সর্বোচ্চ ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানান। এতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের অনুপাত দাঁড়াবে ১:৪।
শিক্ষক নেতারা আরও প্রস্তাব করেন—
- চিকিৎসা ভাতা: ১০,০০০ টাকা
- শিক্ষা ভাতা: এক সন্তানের জন্য ৫,০০০ টাকা, দুই সন্তানের জন্য ১০,০০০ টাকা
- বাড়িভাড়া ভাতা: এলাকাভেদে ৬৫–৮০ শতাংশ বৃদ্ধি
- বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট: ১০%
- ন্যূনতম ৩,০০০ টাকা যাতায়াত ভাতা সকল স্তরের শিক্ষকদের জন্য
- ২০১৫ সালের পে-স্কেলের ৭(খ) অনুচ্ছেদের ভুল ব্যাখ্যার কারণে বঞ্চিত উচ্চতর গ্রেড সুবিধার পুনঃপ্রবর্তন
- টিফিন ভাতা দৈনিক ৬.৬৬ টাকা থেকে বৃদ্ধি
- শতভাগ পেনশন ও আনুতোষিক অর্থ, প্রতি দুই বছর অন্তর শ্রান্তি বিনোদন ভাতা, নববর্ষ ভাতা ৫০%
- সকল শিক্ষকের জন্য রেশন সুবিধা
পে-কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান বলেন,
“শিক্ষকদের মতামত নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তাদের জীবনমান উন্নয়ন ছাড়া শিক্ষার মান উন্নয়ন সম্ভব নয়। শিক্ষকরা বাস্তবসম্মত প্রস্তাব দিয়েছেন, এগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে।”
বৈঠক শেষে বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন,
“বাজারদর ও মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় পরিবারে ছয় সদস্যের জীবনযাত্রার ব্যয় অনুযায়ী বেতন কাঠামো প্রস্তাব করেছি। তবে ১১তম গ্রেড বাস্তবায়নের সীমিত সম্ভাবনা শিক্ষকদের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে। কঠোর আন্দোলন ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না।”
শিক্ষক নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন, পে-কমিশন তাদের প্রস্তাবগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবে এবং উচ্চতর গ্রেড ও বেতন কাঠামোর সংস্কার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সুষ্ঠু সমাধান আসবে।