অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূত কেভিন রাড। ছবিঃ এএপি
মেলবোর্ন, ২২ অক্টোবর- অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূত কেভিন রাডের পক্ষ নিয়ে কথা বলেছেন। সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কেভিন রাডের সমালোচনা করার পর তিনি এ সমর্থন জানান।
২০২৩ সালে আলবানিজ তার দীর্ঘদিনের লেবার পার্টির সহকর্মী রাডকে চার বছরের জন্য ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেন।
দুই দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে আলবানিজ জানান, তিনি ট্রাম্প ও তার স্ত্রী মেলানিয়াকে একটি মডেল সাবমেরিন, কিছু গয়না এবং তাদের নতুন নাতির জন্য ‘আগ বুট(ugg-booties)’ উপহার দিয়েছেন। তিনি বলেন, ভ্রমণটি সফল হয়েছে এবং ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠক ছিল “ইতিবাচক ও গঠনমূলক।”
দুই নেতার আনুষ্ঠানিক বৈঠক মোটামুটি ভালোভাবে গেলেও কেভিন রাড অনিচ্ছাকৃতভাবে আলোচনায় আসেন, কারণ আগে ট্রাম্পবিরোধী সামাজিকমাধ্যমের কিছু পোস্টের বিষয়ে তাকে তিরস্কার করেন ট্রাম্প। এখন মুছে ফেলা সেই পোস্টের বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে ট্রাম্প প্রথমে বুঝতেই পারেননি যে রাড তার সামনেই বসে আছেন। তিনি সরাসরি জিজ্ঞেস করেন, “তুমি কি আমার সম্পর্কে খারাপ কথা বলেছিলে?”
এরপর বলেন, “আমি তোমাকেও পছন্দ করি না, আর মনে হয় কখনোই করব না,” এ কথা শুনে চারপাশে অস্বস্তিকর হাসি শুনতে পাওয়া যায়।
মিডিয়াকে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার সময় শোনা যায়, রাড সরাসরি ট্রাম্পের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছেন। আলবানিজের দাবি, ট্রাম্প তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের আলবানিজ বলেন, “কেভিন রাড দুর্দান্ত কাজ করছেন রাষ্ট্রদূত হিসেবে। আমরা কংগ্রেস হিলে যাদের সঙ্গে দেখা করেছি সবাই একই কথা বলেছেন।”
দিনের শুরুতে অস্ট্রেলিয়া ফ্রেন্ডস নামের এক অনুষ্ঠানে আলবানিজ ব্যক্তিগতভাবে কেভিন রাডকে ধন্যবাদ জানান এই সফরের প্রস্তুতির জন্য। তিনি বলেন, “এর চেয়ে পরিশ্রমী রাষ্ট্রদূত যদি কেউ থাকে, আমাকে জানাবেন। কারণ কেভিন সত্যিই প্রাণপাত করে কাজ করেন এবং সেখানে সবার সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে।”
রিপাবলিকান সিনিয়র নেতা মাইকেল ম্যাককলও আলবানিজের প্রশংসা করেন এবং জানান, তিনি খুশি যে রাড এখনো দায়িত্বে আছেন। তিনি যোগ করেন, “AUKUS সাবমেরিন চুক্তির প্রতিটি ধাপেই কেভিন উপস্থিত ছিলেন।”
অন্যদিকে, বিরোধী দলীয় উপনেতা সুসান লেই স্কাই নিউজকে বলেন, রাডের ভবিষ্যত নিয়ে তাকে ভাবা উচিত। রাড ২০২3 সালের মার্চে তার চার বছরের মেয়াদ শুরু করেন। তবে তাকে বরখাস্ত করার কোনো প্রশ্নই নেই বলে জানিয়ে দেন আলবানিজ।
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র এখন আবারো AUKUS প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। আনুমানিক ৩৭৮ বিলিয়ন ডলারের এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তি নিয়ে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে পর্যালোচনা চলছে এবং অস্ট্রেলিয়ার মধ্যেও সমালোচনা রয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী পল কিটিং একে বলেছিলেন “ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ চুক্তি” এবং সতর্ক করেছিলেন, এতে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হতে পারে।
AUKUS-এর প্রথম ধাপ মূলত তিন দেশের সাবমেরিন তৈরির সক্ষমতা বাড়ানোকে কেন্দ্র করে, যা অনেক বিশ্লেষকের মতে চীনকে উসকে দিতে পারে। তবে আলবানিজ বলেন, এই চুক্তি কোনো একটি দেশকে লক্ষ্য করে নয়।
তিনি বলেন, “AUKUS আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় এবং একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ার লক্ষ্যই এর উদ্দেশ্য।”
এছাড়া তিনি হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে করা বহু-বিলিয়ন ডলারের খনিজ চুক্তিরও প্রশংসা করেন। এই চুক্তি অস্ট্রেলিয়াকে খনিজ উত্তোলনের পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করবে। বর্তমানে এই খাতে বিশ্ব সরবরাহ চেইন চীনের নিয়ন্ত্রণে।
তিনি জানান, “অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে অস্ট্রেলিয়ার ৮.৫ বিলিয়ন ডলারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ প্রকল্পে। এটা কেবল শুরু।”
আলবানিজ আরও জানান, সোমবার তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা কাটিয়েছেন এবং মার্কো রুবিয়ো ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ভ্যান্স মধ্যপ্রাচ্য সফর পিছিয়ে দিয়ে এই বৈঠকে যোগ দেন।
দুই দিনের সফর শেষ করে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি দেশে ফেরার যাত্রা শুরু করেন।
সুত্রঃ এবিসি নিউজ