বুয়েট শিক্ষার্থী শ্রীশান্ত। অভিযোগ তদন্তাধীন; পরিবার ও সহপাঠীরা ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করছেন। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২২ অক্টোবর: বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী শ্রীশান্ত রায় বর্তমানে সাইবার নিরাপত্তা সুরক্ষা অধ্যাদেশের অধীনে দায়ের করা এক মামলায় কারাগারে রয়েছেন। বুধবার (২২ অক্টোবর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে শ্রীশান্তকে হাজির করে কারাগারে রাখার আবেদন করা হলে, শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামীকাল মামলার জামিন শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
শ্রীশান্ত রায়ের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম বলেন, “এই মামলাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং অভিযোগের বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে তদন্তসাপেক্ষ। এটি জামিনযোগ্য অপরাধ, এবং অভিযোগগুলো অনুমাননির্ভর।” তিনি আরও বলেন, “অনেক সময় সামাজিক মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝি বা সংগঠিত প্রতিক্রিয়ার কারণেও এমন অভিযোগ সৃষ্টি হতে পারে, তাই বিষয়টি ন্যায়সংগত তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি।”
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন অবশ্য জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, “শ্রীশান্তের পোস্ট ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে, যা বুয়েটসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।”
এর আগে মঙ্গলবার রাতে পুলিশ বুয়েটের আহসান উল্লাহ হল থেকে শ্রীশান্ত রায়কে আটক করে। বুয়েটের নিরাপত্তাকর্মী মো. আফগান হোসেন চকবাজার থানায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, ছদ্মনাম ব্যবহার করে শ্রীশান্ত সামাজিক মাধ্যমে কিছু পোস্ট দিয়েছেন, যা মুসলিম নারী ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে।
বুয়েট প্রশাসন জানায়, অভিযোগের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং তা তদন্তসাপেক্ষ। বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মাসুদ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।”
অন্যদিকে, বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করে অভিযুক্তের স্থায়ী বহিষ্কার ও আইনি ব্যবস্থার দাবি জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অনেকেই মনে করেন, এমন সংবেদনশীল বিষয়ে বিচার ও তদন্তের প্রক্রিয়া যেন স্বচ্ছ ও পক্ষপাতহীন হয়। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেটি প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত ন্যায়বিচারের নীতিকে সম্মান করা জরুরি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই শ্রীশান্ত রায়ের প্রতি মানবিক আচরণের আহ্বান জানিয়ে মন্তব্য করেছেন “বিচার যেন তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতেই হয়, আবেগ বা চাপের ভিত্তিতে নয়।”
বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন, এবং আদালত আগামী শুনানিতে শ্রীশান্তের জামিন আবেদন পর্যালোচনা করবে।