নির্বাচন কমিশনের লোগো। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৪ অক্টোবর- জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর মধ্যে জোট গঠিত হলেও প্রার্থীদের নির্বাচন করতে হবে নিজ নিজ দলের প্রতীক নিয়ে। বড় দলের প্রতীক ব্যবহার বা যৌথ প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ থাকছে না। একই সঙ্গে কোনো আসনে একজন মাত্র প্রার্থী থাকলেও তিনি আর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে পারবেন না। সেখানে ভোটাররা চাইলে ‘না’ ভোট দিতে পারবেন। ২০১৪ সালের মতো একপক্ষীয় বা সাজানো নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি রোধে এই বিধান রাখা হয়েছে।
এই সব পরিবর্তনসহ সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। বৃহস্পতিবার তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বিষয়গুলো বিস্তারিত জানান।
বিএনপির পক্ষ থেকে আগে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল—জোট গঠিত হলে প্রার্থী চাইলে জোটের বড় দলের প্রতীক ব্যবহার করতে পারবেন। আইন উপদেষ্টা মৌখিকভাবে এতে সম্মত হলেও উপদেষ্টা পরিষদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এসেছে ভিন্ন পথে। এখন থেকে জোটভুক্ত হলেও প্রার্থীদের নিজ দলের প্রতীকে ভোট করতে হবে। বিষয়টি নিয়ে নতুন বিতর্ক দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা।
আরপিওতে এবার ‘না’ ভোটের বিধান রাখা হয়েছে। কোনো আসনে একজন প্রার্থী থাকলেও ভোট হবে, আর ভোটার চাইলে ‘না’ দিতে পারবেন। এতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথ বন্ধ হলো। নির্বাচন কমিশন চাইলে অনিয়মের অভিযোগে পুরো আসনের ভোটও বাতিল করতে পারবে।
আইন উপদেষ্টা জানান, যেসব ব্যক্তি আদালতের ঘোষণায় পলাতক আসামি হিসেবে বিবেচিত, তারা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। আদালত সমন জারি করার পরও হাজির না হলে এবং পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরও না এলে তাকেই পলাতক হিসেবে ধরা হবে।
সংশোধিত আরপিওতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে আলাদা নির্দেশনা ছাড়াই তারা পুলিশের মতোই ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছে।
প্রার্থীদের হলফনামায় দেশি-বিদেশি সব ধরনের সম্পদ, আয়ের উৎস, দায়দেনা উল্লেখ করতে হবে। এসব তথ্য নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। প্রার্থীদের জামানত ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করা হচ্ছে।
প্রবাসী বাংলাদেশি, কারা কর্তৃপক্ষ, সরকারি কর্মকর্তা বা দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা এবার ডাকযোগে ভোট দিতে পারবেন। অনলাইনে নিবন্ধনের পর এই সুযোগ মিলবে। ভোট গণনার সময় সাংবাদিকদের উপস্থিত থাকার নিয়মও যুক্ত হয়েছে।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি, পুলিশের বডিক্যাম, এমনকি ড্রোন ব্যবহারের বিষয়ে সরকার ভাবছে। আইনগত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
একই বৈঠকে বাংলাদেশ শ্রম আইন (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। এখানে গৃহকর্মী ও নৌ-শ্রমিককে শ্রমিকের আওতায় আনা, যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, মাতৃত্বকালীন সুবিধা বৃদ্ধি, নারী-পুরুষ বৈষম্য নিষিদ্ধসহ আন্তর্জাতিক মানের পরিবর্তন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশন সংশোধনী এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশকেও নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।