বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৫ অক্টোবর- আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বিএনপি অক্টোবর মাসের মধ্যেই ২০০টি আসনে একক প্রার্থী নির্ধারণ করে তাঁদের ‘গ্রিন সিগন্যাল’ দিতে যাচ্ছে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। যাতে নির্বাচনী মাঠে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রার্থীরা দ্রুত প্রস্তুতি নিতে পারেন।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বিএনপি থেকে নির্বাচনী এলাকায় যাঁদের মনোনীত করা হবে, তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে সবুজ সংকেত দেওয়া হবে অক্টোবরের মধ্যেই।
সাম্প্রতিক সময়ে কিছু সম্ভাব্য প্রার্থী দাবি করছেন, তাঁরা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ফোন পেয়েছেন এবং তাঁদের প্রার্থিতা নিশ্চিত। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তারেক রহমান নিয়মিতভাবেই তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। এটি নতুন বিষয় নয়। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সময় কথাবার্তা হওয়া স্বাভাবিক বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
জুলাইয়ের গণ–অভ্যুত্থানের পর আলোচনায় আসা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে জোট গঠনের প্রশ্নে তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে যোগাযোগ রয়েছে, কিন্তু এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। জোটবদ্ধ হওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি।
সরকারের দুজন উপদেষ্টাকে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে এই বিষয়ে বিএনপির অবস্থান জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপি সরাসরি কাউকে পদত্যাগ করতে বলেনি। তবে যারা সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং নির্বাচনে অংশ নিতে চান, তাঁদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানো উচিত। আর যদি তাঁরা নির্বাচনেও না আসেন এবং কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ না দেন, তাহলে তাঁদের থাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কিছু থাকবে না।
কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী যদি দলের মনোনীত প্রার্থীর বিপক্ষে দাঁড়ান, তখন কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে? এমন প্রশ্নে সালাহউদ্দিন বলেন, বিএনপি চেষ্টা করছে সমঝোতার ভিত্তিতে প্রতিটি আসনে একক প্রার্থী রাখার। তারপরও কেউ দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করলে, শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য যা নিয়ম, তাই অনুসরণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, প্রার্থী নির্ধারণে সাবেক ছাত্রনেতা, সাবেক যুবনেতা, বর্তমান ছাত্র ও যুবনেতারা এবং তরুণদের মধ্য থেকে একটি অংশ প্রাধান্য পাবে। পাশাপাশি যাঁদের এলাকায় জনসমর্থন বেশি, যাঁরা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য, পরিচিত এবং মেধাবী সব দিক বিবেচনায় তাঁদেরই বেশি গুরুত্ব দেবে বিএনপি।
সুত্রঃ প্রথম আলো