মেলবোর্ন, ২৫ অক্টোবর- যুক্তরাজ্যে চীনের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি ও রাষ্ট্রীয় তথ্য চুরির অভিযোগ উঠেছে। দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশ জানিয়েছে, চীনা গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক লন্ডনসহ বিভিন্ন শহরে সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও সামরিক তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে।
ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্প্রতি দুইজন ব্রিটিশ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যারা চীনা সরকারের হয়ে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও গুপ্তচরবৃত্তি সংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়েছে।
লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন সংসদ সদস্যের সাবেক সহকারী এবং অপরজন একটি প্রতিরক্ষা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা গোপনে চীনের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ফাঁস করতেন।
ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই৫ (MI5) এক বিবৃতিতে বলেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। তারা স্থানীয় রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও গবেষকদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।
এমআই৫-এর পরিচালক কেন ম্যাককালাম বলেছেন, “চীনা সরকারের উদ্দেশ্য হলো- যুক্তরাজ্যের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অনুপ্রবেশ ঘটানো। এটি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি।”
অন্যদিকে, লন্ডনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস এই অভিযোগ “মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, যুক্তরাজ্য চীনের বিরুদ্ধে “ঠান্ডা যুদ্ধের মানসিকতা” নিয়ে কাজ করছে এবং সম্পর্ক নষ্টের জন্য মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে।
ব্রিটিশ সংসদের একাধিক সদস্য চীনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, যুক্তরাজ্যকে অবশ্যই চীনা কোম্পানি ও নাগরিকদের ওপর কঠোর নিরাপত্তা যাচাই ব্যবস্থা চালু করতে হবে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কঠোর আইন প্রণয়ন করা উচিত।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ঘটনা লন্ডন ও বেইজিংয়ের সম্পর্ককে আরও তিক্ত করে তুলবে, যা বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র:আল জাজিরা