মেলবোর্ন, ২৭ অক্টোবর- পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে অপরাধ দমন ও সংগঠিত অপরাধ চক্র মোকাবিলায় নতুন একটি বিভাগ গঠন করা হয়েছে-“ক্রাইম কন্ট্রোল ডিপার্টমেন্ট” (Crime Control Department – CCD)। সরকার দাবি করছে, এটি অপরাধ দমনে এক নতুন যুগের সূচনা করবে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি মূলত পুরোনো Organised Crime Unit (OCU)-এর নতুন নামমাত্র রূপ, যেখানে নীতি বা কাঠামোগত পরিবর্তন খুবই সীমিত।
পাঞ্জাব পুলিশের অধীনে দীর্ঘদিন ধরে কার্যরত ছিল Organised Crime Unit (OCU)। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইউনিটটিতে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ বাড়তে থাকে।
এই প্রেক্ষাপটে প্রাদেশিক সরকার ঘোষণা দেয় যে, অপরাধ দমনে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনতেই OCU-কে বিলুপ্ত করে তার জায়গায় গঠন করা হচ্ছে Crime Control Department (CCD)।
পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মেরি নওয়াজ বলেন,
“এই বিভাগ আমাদের জনগণকে নিরাপদ রাখতে আধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন নীতিতে কাজ করবে। অপরাধ দমনে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
তবে স্থানীয় বিশ্লেষক ও মানবাধিকার কর্মীদের মতে, “নতুন নামে পুরোনো নীতি”র পুনরাবৃত্তিই ঘটছে, কারণ OCU-এর অনেক কর্মকর্তাই এখন CCD-র দায়িত্বে রয়েছেন।
নতুন বিভাগের অধীনে প্রায় ৪,২০০ জন পুলিশ সদস্য কাজ করবেন। বিভাগটির নেতৃত্বে থাকবেন একজন ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (DIG), যিনি সরাসরি পাঞ্জাব পুলিশের আইজিপির কাছে জবাবদিহি করবেন।
CCD-র কার্যক্রমের মধ্যে থাকবে- সংগঠিত অপরাধ দমন,অপহরণ, চাঁদাবাজি ও মাদক পাচার রোধ,সন্ত্রাসী চক্রের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ,ডিজিটাল নজরদারি ও ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার,
সরকার জানিয়েছে, CCD-এর অধীনে নিজস্ব থানা ও তদন্ত ইউনিট গঠন করা হবে, যাতে দ্রুত অপরাধ তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়।
যদিও বিভাগটি নতুনভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে, তবে অনেক কর্মকর্তা ও নীতি আগের মতোই রয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি “কসমেটিক রিফর্ম” বা নাম বদলের রাজনীতি মাত্র।
পাকিস্তানের নিরাপত্তা বিশ্লেষক নাসির আব্বাস বলেন,
“এই বিভাগ গঠন যদি সত্যিই অপরাধ দমন করতে চায়, তাহলে শুধু নাম পরিবর্তন নয়, বরং জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।”
এছাড়া, নতুন বিভাগে দুর্নীতি রোধ ও মানবাধিকার রক্ষার জন্য কোনো স্বাধীন তদারকি সংস্থা গঠন করা হয়নি-যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার কমিশনের কর্মকর্তারা।
বর্তমানে পাকিস্তানে সংগঠিত অপরাধ, মাদক চোরাচালান ও ভূমি দখলচক্রের প্রভাব বেড়ে চলেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, CCD যদি সত্যিকার অর্থে কার্যকর হতে চায়, তাহলে প্রযুক্তি নির্ভর আধুনিক গোয়েন্দা কাঠামো গঠন,স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা,এবং রাজনীতি থেকে স্বাধীন কার্যক্রম নিশ্চিত করা জরুরি।
অন্যথায়, এটি শুধু “নতুন নামের পুরোনো নীতি” হিসেবেই থেকে যাবে।
পাঞ্জাব সরকারের উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনেক প্রশ্ন রয়ে গেছে।
OCU থেকে CCD-তে পরিবর্তন জনমনে আশার সঞ্চার করেছে, তবে কাঠামোগত ও নীতিগত সংস্কার না হলে অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে এটি বড় কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে না – এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র : ডন।