মেলবোর্ন, ২৮ অক্টোবর- রাশিয়া যে নতুন বা পুনরায় পরীক্ষিত একটি নিউক্লিয়ার-চালিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র (বুরেভেস্টনিক/SSC-X-9/Skyfall) পরীক্ষা করেছে তার প্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর বিবৃতি দিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ঘোষণা “যথাযথ” নয় এবং বরং তিনি পুতিনকে ইউক্রেন যুদ্ধে দ্রুত সমাধান আনার দিকে মনোযোগ দিতে বলেছেন।
বৃহস্পতিবার ফেরাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনে ট্রাম্প বলেন, “আমি মনে করি এটা উপযুক্ত নয় – আপনি যুদ্ধটা শেষ করুন, সেটা এক সপ্তাহে শেষ হওয়ার কথা ছিল, এখন এটা চতুর্থ বছরে পৌঁছেছে। তুমি (পুতিন) এমন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করছ?” তিনি আরও যোগ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের “বিশ্বের সেরা” পারমাণবিক সাবমেরিন ইতোমধ্যেই রাশিয়ার উপকূলের কাছে অবস্থান করছে, তাই ওরা অতদূরত্ব পর্যন্ত পরীক্ষা চালানোর বস্তুনিষ্ঠ কারণ দেখাতে পারছে না। ট্রাম্প একই সঙ্গে সম্ভাব্য অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞার ইঙ্গিতও দিয়েছেন।
রাশিয়ার সামরিক উত্সগুলো এবং রাষ্ট্রপতি পুতিনের বক্তব্য অনুসারে বুরেভেস্টনিক পরীক্ষায় অত্যন্ত দীর্ঘ রেঞ্জ (কিছু রিপোর্টে ~১৪,০০০ কিমি এবং ১৫ ঘণ্টারও বেশি অনন্তর উড়ার দাবী) রেকর্ড করা হয়েছে যা রাডার ও রক্ষক ব্যবস্থা অতিক্রম করার দাবি করে। একে ‘নিউক্লিয়ার-চালিত’ বলা হচ্ছে যা তাত্ত্বিকভাবে অত্যন্ত দীর্ঘ সময় ও দূরত্বে চালনা প্রদানের কথা। অধিকাংশ পশ্চিমা বিশ্লেষক এখনও এই সরঞ্জামের কার্যকারিতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সন্দিহান; পূর্বে এমন প্রকল্পে ব্যর্থতার ইতিহাসও রয়েছে।
ক্রেমলিন প্রাথমিকভাবে বলেছে যে রাশিয়া কেবলই তার নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করছে এবং অস্ত্র পরীক্ষার ঘোষণা সম্পর্কের অভ্যন্তরীণ কৌশলগত অংশ মাত্র এটি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ‘গেম’ নয়। তবে পশ্চিমা রাজধানীগুলো বিশেষত খণ্ডিত রিপোর্টের পর-এই ধরণের পরীক্ষাকে বিশ্বস্ততা-বাহ্যকরণের এক ঝুঁকিপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে।
ট্রাম্পের সমালোচনায় শুধুই সামরিক ঘটনাই নয়-সেটি কূটনৈতিক বার্তা। তিনি মূলত ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে রাশিয়ার অস্ত্র-প্রদর্শন শান্তি প্রক্রিয়া ও যুদ্ধ সমাধানকে পিছিয়ে দিচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য কড়া পদক্ষেপ নিতে পারে যথা লক্ষ্যভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা বা কৌশলগত সমন্বয়। যেহেতু ট্রাম্প শাসনকালে এবং পরবর্তী কালে ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাত নিয়ে তাঁর অবস্থান ও নীতির হেরফের লক্ষণীয়, তাই প্রতিটি মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে গুরুত্ব পায়।
বিশ্ববাজারে এবং সমর কৌশলে এমন ঘোষণা বিশেষত পারমাণবিক-সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি নিয়ে আঞ্চলিক ও গ্লোবাল সিদ্ধান্তকে ত্বরান্বিত করে। যুক্তরাষ্ট্র যদি অতিরিক্ত অর্থনৈতিক বা প্রযুক্তিগত নিষেধাজ্ঞার কথা ঘোষণা করে, তাহলে তাতে রাশিয়ার ওপর নতুন চাপ পড়বে; আবার এগুলো উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে সতর্কতাও উচ্চারিত হচ্ছে। কূটনীতিবিদরা বলছেন- ইডোভাবে কাজ করলে আলোচনা ও কন্ট্রোল-চ্যানেলগুলি খোলা রাখাই লাভজনক।
সুত্রঃ এএফপি