অর্থনৈতিক যুদ্ধ মোকাবিলায় টাস্কফোর্স গঠন করল ইরান
চলমান সংঘাতের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ টাস্কফোর্স গঠন করেছে ইরান। অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে যুদ্ধের প্রভাব দ্রুত শনাক্ত করে তা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ…
মেলবোর্ন, ২৮ অক্টোবর- দুই দশক পর পুনরায় বসেছে বাংলাদেশ–পাকিস্তান যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের (জেইসি) বৈঠক। এতে দুই দেশ আকাশ ও নৌপথে সরাসরি যোগাযোগ পুনরায় চালু, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন সহযোগিতা, এবং কৃষিপণ্য ও পাট আমদানিতে পারস্পরিক আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয় নবম জেইসি বৈঠক। বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন অর্থ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, আর পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন দেশটির জ্বালানি (পেট্রোলিয়াম বিভাগ) মন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক।
২০০৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকায় সর্বশেষ জেইসি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ দুই দশক পর এই বৈঠক দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে গত বছর ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ নতুন করে উষ্ণ হতে শুরু করেছে।
বৈঠক শেষে দুই দেশের প্রতিনিধিরা বাণিজ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করেন। আলোচনায় উঠে আসে কৃষি, জ্বালানি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন, ক্রীড়া, উচ্চশিক্ষা, ব্যাংকিং, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রযুক্তি খাতে যৌথ উদ্যোগের বিষয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক বলেন, “দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ এখনো এক বিলিয়ন ডলারের নিচে। এটি বাড়ানো দরকার। আমরা বাংলাদেশ থেকে পাটসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য আমদানি বাড়াতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “২০ বছর পর জেইসি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ায় ইতিবাচক আলোচনা শুরু হয়েছে। দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনাগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে, যা ভবিষ্যত সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে।”
বাংলাদেশের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “বৈঠকে আকাশ ও নৌপথে সরাসরি যোগাযোগ পুনরায় চালুর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।”
তিনি বৈঠকটিকে ‘অত্যন্ত সফল’ বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, “উভয় দেশই বন্দর ও লজিস্টিক সুবিধা ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবহন ব্যয় হ্রাস ও আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে আগ্রহ দেখিয়েছে।”
একই বৈঠকে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) ও পাকিস্তান হালাল অথরিটির (পিএইচএ) মধ্যে ‘হালাল বাণিজ্য সহযোগিতা’ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
এতে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাকসুরা নূর এবং পাকিস্তানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন ঢাকায় নিযুক্ত হাইকমিশনার ইমরান হায়দার।
বৈঠক শেষে উভয় দেশই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে। সিদ্ধান্ত হয়, পরবর্তী (দশম) জেইসি বৈঠক পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হবে।
সুত্রঃ বাসস
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au