আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ২৮ অক্টোবর- গাজীপুরের টঙ্গীর টি অ্যান্ড টি কলোনি জামে মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহ মিয়াজী স্বীকার করেছেন যে, তিনি নিজেই নিজের অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, পঞ্চগড়ে গিয়ে নিজেই নিজের হাতে শিকল বেঁধেছিলেন এবং পরে অপহরণের মিথ্যা অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন)-এর ওপর দায় চাপান।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) রাতে তাকে নিজ বাসা থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় টঙ্গী থানা পুলিশ। এরপর মঙ্গলবার ভোররাত সাড়ে ২টার দিকে একটি ইসলামপন্থি দলের নেতা আতাউর রহমান বিক্রমপুরী ফেসবুক লাইভে এসে দাবি করেন, থানায় আটক অবস্থায় মুফতি মুহিব্বুল্লাহর সঙ্গে তার ফোনে কথা হয়েছে এবং তিনি নিজের সাজানো অপহরণের কথা স্বীকার করেছেন।
আতাউর রহমান বলেন, “মুফতি সাহেব স্বীকার করেছেন যে তিনি নিজেই পুরো নাটক সাজিয়েছেন। তিনি আমাদের সবাইকে বলেছেন, থানা ঘেরাওসহ সব কর্মসূচি থেকে বিরত থাকতে।”
তিনি আরও বলেন, “যেহেতু বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল, তাই পুলিশ ও মুফতি মুহিব্বুল্লাহর বক্তব্যের প্রমাণ দ্রুত প্রকাশ করা উচিত, যাতে জনগণ সত্যটা জানতে পারে।”
এর আগে ২২ অক্টোবর সকাল ৭টার দিকে টঙ্গীর শিলমুন এলাকার এক সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে অপহৃত হওয়ার দাবি করেছিলেন মুফতি মুহিব্বুল্লাহ। পরদিন তিনি নিজেই সংবাদমাধ্যমকে জানান, পঞ্চগড়ে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে পুলিশের হাতে থাকা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ওই সময় তিনি দ্রুত হেঁটে যাচ্ছিলেন। কোথাও কোনো অ্যাম্বুলেন্স, গাড়ি কিংবা অপহরণের দৃশ্য দেখা যায়নি। এমনকি তিনি যে সময়ের কথা বলেছেন, তার ১০ মিনিট পর পর্যন্ত এলাকাজুড়ে কোনো অ্যাম্বুলেন্স দেখা যায়নি।
তদন্তে আরও জানা যায়, তিনি নিজ গাড়ি চালিয়ে টঙ্গী থেকে সিরাজগঞ্জ এবং সেখান থেকে পঞ্চগড়ে যান। পরে সেখানে নিজেই নিজের পায়ে শিকল বেঁধে ‘অপহৃত’ অবস্থার দৃশ্য তৈরি করেন।
অপহরণের পর নির্যাতনের শিকার হওয়ার দাবি করেছিলেন মুফতি মুহিব্বুল্লাহ। কিন্তু পঞ্চগড় সিভিল সার্জন ডা. মো. মিজানুর রহমান জানান, “তার শরীরে কোনো দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। শুধু ব্যথার অভিযোগে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।”
এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর তার নির্যাতনের দাবিও প্রশ্নের মুখে পড়ে।
গাজীপুর পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে, তিনি নিজেই অপহরণের গল্প বানিয়েছেন। নিজের সাজানো নাটকের মাধ্যমে তিনি দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে এবং ধর্মীয় উত্তেজনা সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন।”
পুলিশ জানিয়েছে, নিজের দায় স্বীকারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। তার বিরুদ্ধে নিজের সাজানো অপহরণের অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। যেকোনো সময় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টঙ্গী থানা ঘেরাওয়ের ডাক দেওয়া হলেও মুফতি মুহিব্বুল্লাহর আহ্বানের পর কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী থানা এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
আরও পড়ুন-
মুফতি মুহিব্বুল্লাহ অপহরণ: সিসিটিভিতে অপহরণের প্রমাণ নেই, তদন্তে মিলছে না তার বয়ান
নিজের অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন মুফতি মুহিব্বুল্লাহ, পুলিশের হাতে আটক
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au