ফায়ারিং অনুশীলনে নিহত সেনাসদস্য পিয়াসের দাফন সম্পন্ন
চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ চলাকালে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় দুর্ঘটনায় নিহত সেনাসদস্য আবু বকর সিদ্দিক পিয়াসের জানাজা ও দাফন নোয়াখালীর কবিরহাটে…
মেলবোর্ন, ২৮ অক্টোবর: বাংলাদেশ সেনাবাহিনী খাগড়াছড়ির বর্মাছড়ি এলাকায় স্থাপিত একটি অস্থায়ী টহল ক্যাম্প স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর নেতৃত্বে সংঘটিত বিক্ষোভ ও দাবির প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
আইএসপিআর জানায়, বর্মাছড়িতে সেনা উপস্থিতি ছিল চলমান সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের অংশ, যা শুরু হয়েছিল গত ২৮ সেপ্টেম্বর রামসু বাজার এলাকায় ইউপিডিএফ সশস্ত্র সদস্যদের হামলার পর। ওই হামলায় তিনজন যুবক নিহত হয়।
দীর্ঘমেয়াদি এই অভিযানটির লক্ষ্য পার্বত্য অঞ্চলে নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা এবং ইউপিডিএফের সশস্ত্র নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা, বিশেষত এমন দুর্গম এলাকায় যেখানে স্থায়ী সেনা ক্যাম্প নেই।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আইএসপিআর জানায়, ২৮ সেপ্টেম্বর ইউপিডিএফ সদস্যরা স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবহার করে সেনা সদস্য ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা চালায়।
এই ঘটনার পর সেনাবাহিনী বৃহত্তর এলাকায় অভিযান শুরু করে এবং ১৮ অক্টোবর বন বিভাগের আওতাধীন এলাকায়, আর্য কল্যাণ বিহারের পশ্চিমে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে, একটি অস্থায়ী টহল ক্যাম্প স্থাপন করে।
আইএসপিআর জানায়, সেনা মোতায়েনের পর ইউপিডিএফ সদস্যরা সংঘর্ষ এড়াতে কালাপাহাড় ও ফটিকছড়ি অঞ্চলের দুর্গম এলাকায় আশ্রয় নেয়।
তবে কিছুদিন পর সংগঠনটি নারী, শিশুদের ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উসকে দেয়। দাবি তোলে যে টহল ক্যাম্পটি নাকি বিহারের জমিতে নির্মিত হয়েছে।
আইএসপিআর স্পষ্ট করে জানায়, এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, কারণ ক্যাম্পটি বন বিভাগের সরকারি জমিতে স্থাপন করা হয়েছিল।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “ইউপিডিএফ কোনো প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হলেও অনলাইন প্রচারণা ও পোস্টার বিতরণের মাধ্যমে স্থানীয়দের বিভ্রান্ত করতে থাকে।”
২৪ অক্টোবর প্রায় ১,০০০ মানুষ নারী, পুরুষ ও শিশু অস্থায়ী ক্যাম্পের নিকটে জড়ো হয় এবং ইউপিডিএফ কর্মীদের নির্দেশে সেনা সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে বলে আইএসপিআর উল্লেখ করে।
আইএসপিআর আরও জানায়, বর্মাছড়ি দীর্ঘদিন ধরে ইউপিডিএফের কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু এবং পার্বত্য এলাকা থেকে সমতলে অস্ত্র পাচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট।
স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আরও অস্থিরতা এড়াতে সেনাবাহিনী ক্যাম্পটি অন্যত্র স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তির শেষাংশে বলা হয়, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর, এবং সব ধর্মীয় ও নৃতাত্ত্বিক সংবেদনশীলতাকে গভীরভাবে সম্মান করে।”
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au