মেলবোর্ন, ৩১ অক্টোবর- বাংলাদেশে সংসদ সদস্য হওয়ার প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় লন্ডনের কয়েকজন স্থানীয় কাউন্সিলরকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পূর্ব লন্ডনের জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী কাউন্সিলরদের অন্য দেশে, বিশেষত বাংলাদেশে, এমপি হওয়ার জন্য প্রচারণায় যুক্ত হওয়া “অগ্রহণযোগ্য আচরণ”।
ইস্ট লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের কয়েকজন সদস্য বর্তমানে নির্বাচিত পদে থেকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। তারা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় ভোটার ও ব্রিটিশ গণমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
কাউন্সিলর সাবিনা খান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রার্থী হতে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি ২০২২ সালে মাইল এন্ড এলাকা থেকে লেবার পার্টির টিকিটে নির্বাচিত হয়েছিলেন, তবে ২০২৪ সালে তিনি বরোর ক্ষমতাসীন অ্যাসপায়ার পার্টি-তে যোগ দেন।
সাবিনা খান বর্তমানে টাওয়ার হ্যামলেটস টাউন হলের ওভারভিউ অ্যান্ড স্ক্রুটিনি কমিটি ও লাইসেন্সিং কমিটি-এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সদস্য। তবে কাউন্সিলের নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি নির্ধারিত বৈঠকের অর্ধেকেরও কমে উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সাবিনা খান নিজের দায়িত্ব অবহেলা করছেন এবং তার সময়ের বড় অংশই বাংলাদেশে কাটাচ্ছেন। মাইল এন্ডের এক বাসিন্দা মোহাম্মদ হোসেন ইভনিং স্ট্যান্ডার্ড-কে বলেন,
“আমি মনে করি এটা মোটেও ন্যায্য নয়। তিনি প্রায়ই বাংলাদেশে থাকেন। তার উচিত পদত্যাগ করা। আমরা তাকে আমাদের এলাকার জন্য নির্বাচিত করেছি, বাংলাদেশে রাজনীতি করার জন্য নয়।”
আরেক বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন,
“আমার কাউন্সিলরকে নিয়ে আমি খুশি নই। আরও অনেকেই অসন্তুষ্ট। গত পাঁচ-ছয় মাসে আমরা তাকে দেখিইনি। কোনো সমস্যা হলে তিনি কোনো সমাধান দিতে পারেন না।”
স্বতন্ত্র কাউন্সিলর ওহিদ আহমেদ, যিনি পপলারের ল্যান্সবারি ওয়ার্ডের প্রতিনিধি, তাকেও বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনিও বিএনপির প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্যে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর যুক্তরাজ্যের স্থানীয় রাজনীতিক ও বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন—একজন নির্বাচিত কাউন্সিলর কীভাবে অন্য দেশের রাজনীতিতে সরাসরি যুক্ত থাকতে পারেন? অনেকে বলেছেন, এটি দায়িত্বের প্রতি অবহেলা এবং স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি করে।
স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি নিয়ে প্রাথমিকভাবে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আনা হতে পারে।
একজন ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ মন্তব্য করেন,
“এটি শুধু অগ্রহণযোগ্য নয়, এটি স্থানীয় ভোটারদের প্রতি বিশ্বাসভঙ্গের সামিল। কাউন্সিলর হিসেবে তাদের দায়িত্ব যুক্তরাজ্যের জনগণের প্রতি, বিদেশি রাজনীতির প্রতি নয়।”
এই ঘটনার ফলে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, এবং বিষয়টি এখন লন্ডনের রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।