কাতারের দোহায় কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পর আফগান প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ ইয়াকুব মুজাহিদ এবং পাকিস্তানি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ। ছবি : রয়টার্স
মেলবোর্ন, ৩১ অক্টোবর- পাকিস্তান ও আফগানিস্তান ইস্তানবুলে অনুষ্ঠিত মধ্যস্থতাকারী বৈঠকে সম্মত হয়েছেন যে তারা চলমান যুদ্ধবিরতি বজায় রাখবে এবং এর বাস্তবায়নের জন্য পরবর্তী পর্যায়ের বৈঠক আয়োজন করা হবে। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, দুই পক্ষই আস্থা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কমিশন-স্তরের আলোচনা এবং নিরীক্ষণ ব্যবস্থা গঠন করার জন্য ৬ নভেম্বর একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে ফের মন্ডলীর সম্মুখীন হবে।
তুরস্ক ও কাতারের মধ্যস্থতায় ইস্তানবুলে ২৫-৩০ অক্টোবর পর্যন্ত চলা আলোচনায় উভয়পক্ষই অন্তত এক সপ্তাহের আরও যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি ঐকমত্য হয়েছে-যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে কী ধরণের নজরদারি, যাচাই-বাছাই ও কৌশল প্রয়োগ করা হবে তা পরবর্তী উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে চূড়ান্ত করা হবে।
অক্টোবরে সীমান্তে তীব্র গোলাগুলি ও সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ নিহত ও বহু আহত হওয়ার খবর আসে; এতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা জন্ম নেয় এবং সীমান্ত পাকে-পাক্কি বাণিজ্য ও মানুষের চলাচল প্রভাবিত হয়। এসব সংঘর্ষ থামাতে প্রথম ধাপে দোহায় প্রতিষ্ঠিত একটি মর্মান্তিক আস্থাভাঙা চুক্তি ছিল, কিন্তু পরবর্তী আলোচনায় তা কক্ষপথে ফেরাতে ইস্তানবুল রাউন্ডে সমঝোতার প্রয়োজন পড়েছে।
পাকিস্তান প্রধানত দাবি করেছে-আফগানিস্তানের ভূপ্রদেশে ছড়িয়ে থাকা তৎপর দুষ্কৃতী গোষ্ঠী, বিশেষত তেহরীক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টি.টিপি) এবং অন্যান্য সশস্ত্র উপাদানদের নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। আফগান পক্ষ বলেছে, তারা কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত, কিন্তু উভয়পক্ষের মধ্যে বিশ্বাস পুনর্গঠনই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। মধ্যস্থতাকারীরা তুরস্ক ও কাতার এ বিষয়ে বাস্তবসম্মত বাস্তবায়ন পরিবেশ গঠনে ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সীমান্তে সাময়িকভাবে বন্ধ করা বড় চেকপোস্টগুলো খুলে দেয়ার ধাপে আছে, তবে বাণিজ্য ও মানুষের স্বাভাবিক চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিশেষত মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো-এই প্রক্রিয়াকে সমর্থন জানিয়ে বলেছে, সফল বাস্তবায়ন হলে এটি দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য ইতিবাচক সংকেত হবে; ব্যর্থ হলে সীমান্ত উত্তেজনা আবারো উকিড়ে উঠতে পারে।
তুরস্কের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৬ নভেম্বর ইস্তানবুলে প্রধান পর্যায়ের বৈঠকে যুদ্ধবিরতি প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক দিকগুলো চূড়ান্ত করা হবে-যেমন সীমান্তে মনিটরিং মেক্যানিজম, অভিযোগ আপীল ব্যবস্থাপনা এবং অচলাবস্থা সৃষ্টি করলে দ্রুত প্রতিকার প্রক্রিয়া। একইসঙ্গে, দুই দেশকেই আহ্বান জানানো হয়েছে শান্তিপূর্ণ ও কূটনৈতিক পথ অবলম্বন করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান অনুসন্ধানের জন্য।
তুরস্ক-কাতারের মধ্যস্থতায় পাকিস্তান ও আফগানিস্তান ইস্তানবুলে আলোচনায় এক আপাতত সফল স্বাক্ষর দিয়েছেন,এক সপ্তাহে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি ও ৬ নভেম্বর উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বাস্তবায়ন কৌশল নির্ধারণের সিদ্ধান্ত। এ ধারাবাহিকতার সাফল্য পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সুত্রঃ রয়টার্স