চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ১ নভেম্বর- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর তিন মাস বাকি। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নির্বাচনের আগে জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ নিয়ে চাপে পড়েছে সরকার। একদিকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা এবার আর মাঠ প্রশাসনে থাকবেন না। অন্যদিকে যোগ্য নতুন কর্মকর্তার সংখ্যা খুবই সীমিত।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানায়, এখন যাঁরা ডিসি হওয়ার মতো যোগ্য, তাঁদের অনেকেই ২০১৮ সালের নির্বাচনে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা (এআরও) ছিলেন। আবার যাঁরা ছিলেন না, তাঁদের অনেকে ডিসি হওয়ার শর্ত পূরণ করেননি। মাঠ প্রশাসনে অন্তত দুই বছর দায়িত্ব পালন না করলে ডিসি পদে নিয়োগ দেওয়া যায় না। ফলে বেশ কিছু কর্মকর্তা নিয়ম মেনে বাদ পড়ছেন।
নির্বাচনের সময় সাধারণত প্রতিটি জেলায় রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকেন ডিসিরা। তাঁদের ওপরই নির্বাচনের পুরো প্রশাসনিক দায়িত্ব থাকে। তাই নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে সরকার পুরনো কর্মকর্তাদের বাদ দিচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে এতে যোগ্য কর্মকর্তার সংকট তৈরি হয়েছে।
এই অবস্থায় নতুন ডিসি নিয়োগে গত বুধবার থেকে উপসচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকার শুরু করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মূলত বিসিএস ২৯তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তিন দিনে প্রায় ৬০ জন কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে, আজ শনিবার পর্যন্ত ১১০ জনের সাক্ষাৎকার শেষ হওয়ার কথা। এর আগে জুন ও জুলাই মাসে ২৮তম ব্যাচের ১৬০ কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার নেওয়া হলেও তাদের কাউকেই এখনো ডিসি করা হয়নি।
একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকার নির্বাচনকালীন প্রশাসনে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে চায়। তাই আগের তিন নির্বাচনে যারা কোনো পর্যায়ে দায়িত্বে ছিলেন, তাদের এবার যুক্ত করা হচ্ছে না। তবে এতে প্রশাসনে কার্যত এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে, কারণ এমন কর্মকর্তা খুবই কম যারা ২০১৮ সালের ভোটে কোনো ভূমিকা রাখেননি।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের তিনটি নির্বাচনই নানা বিতর্কে ঘেরা ছিল। ২০১৪ সালে ১৫৩ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়, ২০১৮ সালের ভোট ‘রাতের ভোট’ এবং ২০২৪ সালের ভোট ‘ডামি ভোট’ নামে পরিচিত। বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল বারবার দাবি করে আসছে, ঐ নির্বাচনে প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা দলীয়ভাবে কাজ করেছেন। তাই তারা এবার ওই কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থেকে সরানোর দাবি জানায়।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ডিসি, এডিসি ও ইউএনও পদে এমন কাউকে রাখা হবে না, যিনি গত তিন নির্বাচনে কোনোভাবে যুক্ত ছিলেন। এমনকি ন্যূনতম ভূমিকা থাকলেও তাকে দায়িত্বে রাখা হবে না।
নিয়োগের নীতিমালা
২০২২ সালের ‘পদায়ন নীতিমালা’ অনুযায়ী, ডিসি হিসেবে নিয়োগ পেতে হলে একজন কর্মকর্তার উপসচিব পদে পদোন্নতির পর অন্তত এক বছর পূর্ণ হতে হবে, মাঠ প্রশাসনে দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে, গত পাঁচ বছরের গোপনীয় প্রতিবেদন সন্তোষজনক হতে হবে, এবং শৃঙ্খলা রেকর্ড ভালো থাকতে হবে।
বর্তমানে ২১ জেলায় বিসিএস ২৪তম ব্যাচের ডিসি রয়েছেন। নির্বাচনের আগে তাদের সবাইকে সরানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ২৫তম ব্যাচের ২৭ জনের মধ্যেও দক্ষতার ঘাটতি থাকায় কিছুজনকে বদলি করা হবে। ২৭তম ব্যাচের ১৬ জন ডিসির মধ্য থেকে অনেককে স্থানান্তর করা হতে পারে। নির্বাচনের আগে অন্তত ৩০ জন নতুন ডিসি নিয়োগের পরিকল্পনা আছে।
কিন্তু ২৮ ও ২৯তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের অনেকেরই মাঠ প্রশাসনে দুই বছরের অভিজ্ঞতা পূর্ণ হয়নি। ফলে তারা ডিসি হওয়ার যোগ্যতার বাইরে চলে যাচ্ছেন।
প্রশাসনিক বিশ্লেষণ
বিপিএটিসির রেক্টর ও সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, গত তিন নির্বাচনে প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা বিতর্কিত ভূমিকা রেখেছেন, তাই তাদের বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে সরকারের দোষ দেওয়া যায় না। তবে তিনি মনে করেন, যাঁরা বাধ্য হয়ে দলীয় নির্দেশে কাজ করেছেন এবং যাঁরা অতি উৎসাহী হয়ে পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন, তাদের আলাদা শ্রেণিবিন্যাস করা উচিত ছিল। সেটি করলে আজ ডিসি নিয়োগে এত জটিলতা তৈরি হতো না।
অন্যদিকে প্রশাসনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, বিগত তিন নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত সবার ওপর একযোগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় অনেক যোগ্য ও নিরপেক্ষ কর্মকর্তাও সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে নির্বাচনের আগে নতুন ডিসি নিয়োগ সরকারে জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সুত্রঃ প্রথম আলো
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au