চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ৪ নভেম্বর- আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ২৩৭টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। বাকি ৬৩টি আসনের মধ্যে ৪০টি আসন যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের জন্য ছাড় দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। তবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়ে সমঝোতা হলে এই হিসাব কিছুটা বদলে যেতে পারে বলে জানিয়েছে দলের নেতারা।
সোমবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে গুলশানে বিএনপির প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর দলের একাধিক স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা যায়।
দলের একাধিক সূত্র জানায়, প্রার্থী তালিকা চূড়ান্তের আগে তিনটি জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গত এক মাস ধরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির তিন নেতা- নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দিন আহমেদ ও ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন সারাদেশের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেন। এরপর জরিপ ও পর্যালোচনার ফল মিলিয়ে ২৬০ আসনের একটি খসড়া তালিকা প্রস্তুত হয়।
সেই খসড়া তালিকা ধরে সোমবার বেলা ১২টা থেকে তিন ঘণ্টার বৈঠকে স্থায়ী কমিটি ২৩৭টি আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করে। বাকি ২৩ আসন নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, “দীর্ঘ পর্যালোচনার পর আমরা সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছি।”
অন্যদিকে, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “এবার কোনো পরিবার থেকে দুজন প্রার্থী অংশ নেবে না। স্থায়ী কমিটির সদস্যদের পরিবারের কেউও প্রার্থী হচ্ছেন না।”
তিনি জানান, ঘোষিত তালিকার বাইরের আসনগুলোতে বিএনপির পাশাপাশি যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলো থেকেও প্রার্থী আসবে। এগুলো পরে সমন্বয় করা হবে।
বিএনপির আরেক স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, “২৩৭টি আসন নিয়ে ঐকমত্য হয়েছে। বাকি আসনগুলো নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। ঘোষিত তালিকায় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুব কম।”
অন্যদিকে, এনসিপির সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। সমঝোতা হলে গণঅভ্যুত্থানের ছাত্রনেতাদের নিয়ে গঠিত এই দলকেও বিএনপি কিছু আসন ছাড় দিতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
ফেনী-১, দিনাজপুর-৩ এবং বগুড়া-৭ আসন থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অংশ নেওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল। তবে দলের একাধিক সূত্র বলছে, তার শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করবে তিনি শেষ পর্যন্ত কতটি আসনে অংশ নেবেন।
ঘোষিত তালিকায় দলের কয়েকজন পরিচিত নেতার নাম অনুপস্থিত। এর মধ্যে রয়েছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২), ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
অন্যদিকে, শরিক দল নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না জানিয়েছেন, বিএনপির সঙ্গে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা হয়নি, তবে তারা নিজেদের প্রস্তাবনা জমা দিয়েছেন।
বিএনপির এক স্থায়ী কমিটির সদস্যের ভাষায়, “৬৩টি আসন এখনো খালি রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৪০টি শরিকদের জন্য ছাড়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এনসিপির সঙ্গে সমঝোতা হলে এই সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।”
এর আগে এক সাক্ষাৎকারে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “সব রাজনৈতিক দলের জন্য আমাদের দরজা খোলা। আমরা এনসিপিসহ সবাইকে স্বাগত জানাই। কেউ আমাদের সমালোচনা করলেও আমরা তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।”
চূড়ান্ত না হওয়া ৬৩ আসন
ঠাকুরগাঁও-২, দিনাজপুর-৫, নীলফামারী-১ ও ৩, লালমনিরহাট-২, বগুড়া-২, নওগাঁ-৫, নাটোর-৩, সিরাজগঞ্জ-১, পাবনা-১, ঝিনাইদহ-১, ২ ও ৪, যশোর-৫, নড়াইল-২, বাগেরহাট-১, ২ ও ৩, খুলনা-১, পটুয়াখালী-২ ও ৩, বরিশাল-৩, ঝালকাঠি-১, পিরোজপুর-১, টাঙ্গাইল-৫, ময়মনসিংহ-৪ ও ১০, কিশোরগঞ্জ-১ ও ৫, মানিকগঞ্জ-১, মুন্সিগঞ্জ-৩, ঢাকা-৭, ৯, ১০, ১৩, ১৭, ১৮ ও ২০, গাজীপুর-১ ও ৬, নরসিংদী-৩, নারায়ণগঞ্জ-৪, রাজবাড়ী-২, ফরিদপুর-১, মাদারীপুর-২, সুনামগঞ্জ-২ ও ৪, সিলেট-৪ ও ৫, হবিগঞ্জ-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও ৬, কুমিল্লা-২ ও ৭, লক্ষ্মীপুর-১ ও ৪, চট্টগ্রাম-৩, ৬, ৯, ১১, ১৪ ও ১৫ এবং কক্সবাজার-২।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au