ইসরায়েলি হামলায় আহতদের গাজায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৫ নভেম্বর- ইসরায়েলি হামলা ও দীর্ঘ অবরোধে বিপর্যস্ত গাজা উপত্যকার হাসপাতালগুলোতে এখন এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। চিকিৎসা সামগ্রী, অক্সিজেন ও বিদ্যুতের ঘাটতিতে রোগীরা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ সব বয়সের মানুষ হাসপাতালের বিছানায় কষ্টে ধুঁকছেন, অথচ অনেকের জন্য পর্যাপ্ত ওষুধ বা চিকিৎসা সহায়তা নেই।
গাজার সবচেয়ে বড় শিফা হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাসপাতালের বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আইসিইউ ও অপারেশন থিয়েটার কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। অক্সিজেন সিলিন্ডার ফুরিয়ে যাওয়ায় অনেক রোগীকে ম্যানুয়াল ভেন্টিলেশনের মাধ্যমে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। শিশু বিভাগে একাধিক নবজাতক পর্যাপ্ত ইনকিউবেটর না পেয়ে একই যন্ত্রে একাধিক শিশুকে রাখা হয়েছে, যা সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা দিনরাত কাজ করলেও ওষুধের অভাবে তাদের হাত বাঁধা। ইনজুরি ও পোড়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু সার্জারি করার মতো যন্ত্রপাতি বা স্টেরাইল ব্যান্ডেজ নেই। অনেক হাসপাতাল পানির সংকটে পড়েছে, ফলে চিকিৎসার পরিবেশও নোংরা ও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলমান অবরোধের কারণে ওষুধ ও জ্বালানি সরবরাহ প্রায় বন্ধ। আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থাগুলো সীমিত পরিমাণে সরঞ্জাম পাঠাতে পারলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগণ্য।
জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা বলেছে, গাজার হাসপাতালগুলোতে এখন “জীবনের চেয়ে মৃত্যু সহজতর” অবস্থা তৈরি হয়েছে। রোগীরা চিকিৎসার অপেক্ষায় বিছানায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন, চিকিৎসকরা অসহায়।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো অবিলম্বে মানবিক করিডর খুলে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও খাদ্য সরবরাহের দাবি জানিয়েছে। তারা সতর্ক করেছে, যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে গাজায় চিকিৎসাবঞ্চিত অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি ঘটবে।
সূত্র: আল জাজিরা