নিউ ইয়র্ক সিটি, নিউ জার্সি, ভার্জিনিয়া ও ক্যালিফোর্নিয়ায় হওয়া এসব নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের জয়। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৫ নভেম্বর- যুক্তরাষ্ট্রে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও গণভোটে বড় ধাক্কা খেয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। নিউ ইয়র্ক সিটি, নিউ জার্সি, ভার্জিনিয়া ও ক্যালিফোর্নিয়ায় হওয়া এসব নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের জয় এবং রিপাবলিকানদের প্রস্তাবিত গণভোট পরাজিত হওয়ায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটি আগামী ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ট্রাম্প শিবিরের জন্য এক সতর্ক সংকেত।
নিউ ইয়র্ক সিটিতে মেয়র পদে রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়াকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জোহরান মামদানী। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই তরুণ রাজনীতিক মূলত অভিবাসী ও তরুণ ভোটারদের শক্ত সমর্থন পেয়েছেন। তাঁর প্রচারণায় জীবনযাত্রার ব্যয়, গৃহনির্মাণ এবং ন্যায্য মজুরির মতো জনজীবনসংক্রান্ত ইস্যু গুরুত্ব পায়।
নিউ জার্সির গভর্নর নির্বাচনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মিকি শেরিল। তিনি রিপাবলিকান জ্যাক সিয়াতারেলিকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেন। এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, মিকি শেরিল ১৭ লাখ ৯২ হাজার ৭৬০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন, যেখানে জ্যাক সিয়াতারেলির প্রাপ্ত ভোট ১৩ লাখ ৭৮ হাজার ৩৯১। ট্রাম্পবিরোধী মনোভাবকে হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগানো এবং নারীবান্ধব নীতি তুলে ধরা তাঁর জয়ের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। সাবেক নৌবাহিনীর হেলিকপ্টার পাইলট ও সরকারি কৌঁসুলী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা ৫৩ বছর বয়সী শেরিল হচ্ছেন নিউ জার্সির দ্বিতীয় নারী গভর্নর।
ভার্জিনিয়ায়ও রিপাবলিকানদের পরাজয় ঘটেছে। অঙ্গরাজ্যটিতে গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাবিগেইল স্প্যানবার্গার জয়ী হয়েছেন। তিনি ১৯ লাখ ৬৭ হাজার ৭১৯ ভোট পান, যেখানে রিপাবলিকান প্রার্থী উইনসম আর্ল-সিয়ার্সের ভোট ১৪ লাখ ৪৩ হাজার ৮৫৭। ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর এমন জয়ে নারী ভোটার ও শহরতলির তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকেরা।
অন্যদিকে, ক্যালিফোর্নিয়ায় সীমানা পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী গণভোটে রিপাবলিকানদের প্রস্তাবিত পরিবর্তনের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে জনগণ। এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটে জয় এসেছে, যা ডেমোক্র্যাটদের অবস্থানকে আরও শক্ত করেছে। এর ফলে ২০২৬ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের অন্তত পাঁচটি আসন হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি লেখেন, “ব্যালটে ট্রাম্প ছিলেন না। ফেডারেল সরকারও এখন অচল অবস্থায়। এসব কারণেই ফলাফল এমন হয়েছে।” তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটি ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার পতনের ইঙ্গিত বহন করে এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দলটির অভ্যন্তরীণ কৌশল পুনর্বিবেচনার সময় এসেছে।
সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের চারটি অঙ্গরাজ্যে হওয়া এসব নির্বাচনে ভোটাররা ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে এক ধরনের ঝড় তুলেছেন। এটি শুধু স্থানীয় প্রশাসন বা আইন সংশোধনী নয়, বরং জাতীয় রাজনীতিতে ভোটারদের মনোভাব পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত। নির্বাচনের এক বছরের মাথায় ট্রাম্পের দলের এমন পরাজয় মার্কিন রাজনীতিতে নতুন এক বাস্তবতা তৈরি করেছে।